স্মরণীয় জয়ে তৃপ্ত পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক

করাচিতে ১০ বছর পর ক্রিকেট ফেরার দিনটা স্মরণীয় করে রাখল পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার শ্রীলঙ্কাকে ৬৭ রানের বড়ো ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দলটি।

অধিনায়ক সরফরাজ তাই তৃপ্ত। বললেন, ‘আমরা দারুণ একটা সূচনা পেয়েছি। কৃতিত্বটা অবশ্যই বাবর, হারিস, ইমাম ও ফখরকে দিতেই হবে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক ব্যাপার।’

যদিও, তিনি মনে করেন স্কোরটা আরো বড়ো হওয়া দরকার ছিল। বললেন, ‘তবে, আমরা এই ভালো শুরুটা ধরে রাখতে পারিনি। মাঝের ওভারগুলো তো আমাদের আরো বেশি রান তোলা উচিত ছিল।’

২০০৯ সালের পর করাচিতে আর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ১০ বছর পর খেলতে নেমে পাকিস্তানকে দারুণ একটা সূচনা এনে দেন বাবর আজম। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১০৫ বলে আটটি চার ও চারটি ছক্কায় ১১৫ রান করেন তিনি। এদিন দারুণ ফর্মে ছিল পাকিস্তানের টপ অর্ডার।

৮৮ বল মোকাবিলা করে দলকে ৭৩ রানের সূচনা এনে দেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার ফখর জামান ও ইমাম-উল-হক। ইমাম ৩১ রানে থামলেও, ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন ইমাম। ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৬৫ বলে ৫৪ রান করে থামেন তিনি। চার নম্বরে নামা হারিস সোহেল করেন ৪০ রান। এরপর আর কেউই বলার মতো স্কোর গড়তে পারেননি। ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক সরফরাজ। শেষের দিকে ইফতেখার আহমেদের ২০ বলে ৩২ রানের ইনিংসের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ৩০৫ রান করে স্বাগতিকরা।

৩০৬ রানের বড়ো লক্ষ্যে খেলতে নেমে স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কার টপ-অর্ডার। তাই ২৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের পথ দেখে ফেলে লঙ্কানরা। এরপর শিহান জয়াসুরিয়া ৯৬ ও দাসুন শানাকা ৬৮ রানের ইনিংস খেললেও সেটা ব্যবধান কমানো ছাড়া সফরকারীদের কোনো উপকারে আসেনি।

তিন ওভার এক বল বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে যায় লঙ্কানরা। বোর্ডে তখন জমা হয়েছিল মাত্র ২৩৮ রান। বল হাতে উসমান সিনওয়ারি ৫১ রানে ৫ উইকেট নেন। তার হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে এই করাচিতেই শেষ ওয়ানডে খেলেছিল লঙ্কানরা। তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিলো শ্রীলঙ্কা। ঐ সফরের ওয়ানডে সিরিজ শেষে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বাইরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের টিম বাসে ১২ জন বন্দুকধারী হামলা করে।

ছয় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার আহত নন। ছয়জন পাকিস্তানি পুলিশসহ মোট আট জন সেদিন সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারায়। সেই ঘটনার জের ধরে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন একদম নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে পাকিস্তানের খেলতে যায়নি বিশ্ব ক্রিকেটের দেশগুলো। এর পর থেকে লম্বা সময়ের জন্য পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে।

আজ অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের  তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচ। এরপর লাহোরে পাঁচ অক্টোবর থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।