অর্থ আইন ২০১৯ অনুযায়ী প্রতি ১০ গ্রাম জর্দা ও গুলের খুচরা বিক্রয় মূল্য যথাক্রমে ৩০ ও ১৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। জর্দার তুলনায় গুলের মূল্য অর্ধেক হওয়ায় জনমনে এ ধারণা জন্মানো স্বাভাবিক যে, গুলের ক্ষতি কম। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি সেরকম নয়। এ প্রসঙ্গে আমরা ঢাকা মেডিক্যালের একটি গবেষণার প্রতি সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ঐ গবেষণায় দেখা যায়, একমাত্রা জর্দা ও গুলে নিকোটিনের পরিমাণ ৪.১ মিলিগ্রাম। তাই এ দুটি তামাকজাত পণ্য সেবনে অনেক মানুষ হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারসহ নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং অনেকের অকাল মৃত্যুও ঘটে। প্রসঙ্গত, গোবাল অ্যাডাল্ট ট্যোবাকো সার্ভে ২০০৯ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে ২৭.২% (২ কোটি ৫৯ লাখ) মানুষ (নারীর সংখ্যাই বেশি) ধোঁয়াবিহীন তামাক অর্থাত্ জর্দা ও গুল ব্যবহার করে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারত্মক ক্ষতিকর হওয়ার কারণে সরকার খুচরা মূল্য বাড়িয়ে এ দুটি প্রাণঘাতী পণ্যের ব্যবহার হ্রাস করতে চায়। কিন্তু মূল্য বৃদ্ধিতে ব্যাপক বৈষম্য থাকার কারণে সরকারের এ মহতি উদ্দেশ্যে পূরণ হবে না বলে আমাদের ধারণা। গুলের খুচরা বিক্রয় মূল্য কম থাকায় এর ব্যবহার বাড়লে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও হুমকির মধ্যেই থাকবে। এ অবস্থায়, সরকার তথা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অবিলম্বে একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে জর্দার মতো প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা বিক্রয় মূল্য ৩০ টাকা ধার্য করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
হাজী মো. আলি বশির
৮৮/৮৯ আগাসাদেক রোড,
মাহবুব আলী
৪১ আবদুল হাদী লেন, বংশাল, ঢাকা