জমি অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন টেন্ডার আহ্বান অক্টোবরে

খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল

এনামুল হক, খুলনা অফিস

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির আট বছরের মাথায় খুলনায় বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটি নির্মাণের কাজ শুরুর জন্য টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, অন্যান্য কাজ শেষ করে অক্টোবর মাসের শুরুতেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এদিকে খুলনায় একমাত্র শিশু হাসপাতালটি রোগীদের চাহিদা সামলাতে ‘সিট খালি নাই’ ঘোষণা লাগিয়েছে হাসপাতালের গেটে। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

 খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় একটি বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১২ সালে শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জায়গা খোঁজা শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। তবে জায়গা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি। প্রথমে খুলনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (মন্নুজান স্কুল) ও লো-কস্ট কলোনির সামনের খালি জায়গায় উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভাগীয় সার্কিট হাউজ নির্মাণে নির্দিষ্ট থাকায় সেটি বাতিল হয়। পরবর্তীতে নগরীর সোনাডাঙ্গা সিটি বাইপাস সড়কসংলগ্ন ময়ূরী আবাসিক এলাকা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যবর্তী স্থানের প্রায় পাঁচ একর জমিতে সরকারি শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করে গণপূর্ত বিভাগ।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ ৪ দশমিক ৮০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের এল এ শাখা এরই মধ্যে ৫২ কোটি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করে চাহিদা অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দিয়েছে। তবে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক হাসপাতালের ডিজাইন এখনো না আসায় দরপত্রের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে পারছে না গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, ডিজাইন হাতে পেলে অক্টোবর মাসের প্রথমদিকেই দরপত্রের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।

এদিকে খুলনায় একমাত্র বেসরকারি শিশু হাসপাতালের চিকিত্সকরা রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন। হাসপাতালের গেটে ‘কোনো সিট খালি নাই’ লেখা রয়েছে। ফলে দূরদূরান্ত থেকে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকরা পড়ছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে। এছাড়া খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও শিশুদের জন্য নেই পর্যাপ্ত সেবা।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খুলনা অঞ্চলে একটি বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে খুলনার মানুষের কাছে দিয়েছেন। প্রথমে জায়গা নির্ধারণ নিয়ে কিছুটা জটিলতা থাকলেও সবার আন্তরিকতায় অবশেষে অর্থ ছাড় দিয়েছে মন্ত্রণালয়। জেলা প্রশাসন এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে গণপূর্ত কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। এখন যে কোনো সময় কাজ শুরু হবে। দ্রুত সার্বিক কাজ শেষ করার মধ্য দিয়ে খুলনায় ২০০ শয্যার হাসপাতালটি শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, জমি অধিগ্রহণ করে গণপূর্ত বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা হাসপাতাল নির্মাণের কাজ করবে।