চলছে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ

লক্ষ্মীপুরে ৭৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে

 লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 

শরতের কাশফুল জানান দেয় দেবী দুর্গা আসছেন। তারই সঙ্গে ঢাকের তালে দেবীকে আহ্বান জানান তার ভক্তরা। বছর ঘুরে দুয়ারে এসেছে দুর্গা উত্সব। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড়ো এই উত্সব দুর্গাপূজাকে ঘিরে লক্ষ্মীপুর জেলার ৭৮টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও প্রতিমাতে রঙ-তুলির কাজ।  শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মণ্ডপের সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির সংশ্লিষ্ট কারিগররা। জেলা শহর ও নিকটবর্তী বড়ো পূজামণ্ডপগুলোতে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্যয়বহুল তোরণ। পাঁচ দিনব্যাপী এ দুর্গাপূজা উত্সব চলবে।

সরেজমিনে জেলার পৌর শহরের শ্যামসুন্দর জিউর আখড়া ও শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ির মন্দিরসহ কয়েকটি মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রতিমা তৈরি, রঙ-তুলি ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি। শিল্পী ও কারিগরদের নিপুণ হাতের তৈরি প্রতিমায় চলছে রঙসহ অলঙ্কার পরানোর কাজ। এ ছাড়া কাঠ, বাঁশ, ককশিট, কাপড় ও রঙ ব্যবহার করে কারুকার্য খচিত মণ্ডপ সাজিয়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে। মৃিশল্পীরা রাত-দিন কাজ করে প্রতিমা তৈরি করছেন। এবার লক্ষ্মীপুরে প্রতিমা কারিগরদের শৈল্পিক কাজে আধুনিকতা ও নতুনত্বের ছোঁয়া লাগায় দর্শকদের মন কাড়বে।

প্রতিমা তৈরির কারিগররা জানান, দুর্গাপূজা এলে তাদের কাজ বেড়ে যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও তাদের কাজ বেড়েছে, রাত-দিন পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরি করে দর্শনার্থীদের সামনে সঠিক সময়ে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে তাদের সার্থকতা। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ার আগের মতো তাদের লাভ হয় না বলে জানান তারা।

লক্ষ্মীপুর জেলা পূজা উদযাপন কমিটির দেয়া তথ্যমতে, জেলায় এবার ৭৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৪টি, রায়পুরে ১০টি, রামগঞ্জে ২১টি, রামগতিতে ১০টি ও কমলনগরে ৩টি। বর্তমানে এসব পূজামণ্ডপে পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরি ও দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জার কাজ।  জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শঙ্কর মজুমদার জানান, জেলায় সবকয়টি পূজামণ্ডপে উত্সবের যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ চলছে। ইতিমধ্যে শারদীয় দুর্গোত্সবকে নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, সবার সার্বিক সহযোগিতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বড়ো উত্সব দুর্গাপূজা আনন্দঘন পরিবেশে শুরু ও শেষ হবে। এ উত্সবকে ঘিরে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনী সদস্যরা কাজ করবেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, প্রতিমা তৈরি থেকে পূজার আগমুহূর্ত, পূজাকালীন ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা বলবত্ রাখতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সড়ক, মণ্ডপ এবং আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তায় ভাগে ভাগে থাকবে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা। এছাড়া সকলের সার্বিক সহায়তা পেলে উত্সবকে সাফল্য মণ্ডিত করে একটি সুন্দর স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পূজা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।