বাসস
বর্তমান সরকার দেশের ৪৪ লাখ প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় এনেছে। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসব প্রবীণরা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজ বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে প্রবীণদের জন্য এই ভাতা চালু করা হয়। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত প্রবীণ বিষয়ক ‘জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩’। এই নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের ষাটোর্ধ্ব প্রত্যেক নাগরিক প্রবীণ হিসেবে গণ্য হবেন এবং তাদেরকে রাষ্ট্রের ‘সিনিয়র সিটিজেন’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ‘সিনিয়র সিটিজেন’ হিসেবে তারা বিশেষ পরিচয়পত্র পাবেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহে বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিত্সা সুবিধা পাবেন।
প্রবীণ বন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. মহসীন করিম লিমন জানান, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের তথ্য মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রবীণ লোকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ। ২০১১ সালে বাংলাদেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১২ লাখ, যা ২০৬১ সালনাগাদ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে আনুমানিক ৫ কোটি ৬০ লাখে উন্নীত হবে। ২০৫০ সালে এ দেশের শিশু প্রবীণের অনুপাত হবে ১৯:২০। সীমিত সম্পদ আর বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতা ভবিষ্যতে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রবীণদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াসে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘৯০-এর দশকেই সরকার প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকায় প্রবীণদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও প্রবীণ নিবাস এবং তত্কালীন পাঁচটি বিভাগীয় শহরে প্রবীণদের জন্য বিশেষ ক্লিনিক স্থাপন করে। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে প্রণীত বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম প্রবীণদের জন্য সরকারের সবচেয়ে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। সারাদেশের চার লাখ প্রবীণের জন্য প্রতিমাসে ১০০ টাকা হিসেবে ভাতা প্রদানের কর্মসূচির আওতা ও অর্থের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ৪৪ লাখ বয়স্ক ব্যক্তির জন্য জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।