কোথাও কোথাও বিপত্সীমা ছাড়িয়েছে পদ্মার পানি

উজান থেকে আসা পানি ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টির ফলে পদ্মাসহ কয়েকটি নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।  পানি কোথাও বিপত্সীমা পার হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও এই সীমা ছুঁইছুঁই করছে। ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়ে গেছে বহু গ্রাম। এর ফলে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ইত্তেফাকের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

উজান থেকে হুহু করে পানি ধেয়ে আসায় পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর  উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা  ইউনিয়নের ৫০ গ্রামের অনন্ত  ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আকস্মিক বন্যায় এ উপজেলার চরাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির মাষকলাইসহ অন্যান্য উঠতি ফসল তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপত্সীমা ১৪.২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে। ফলে জেলায় বড়ো ধরনের বন্যার  আশঙ্কা করা হচ্ছে। চরাঞ্চলের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক                বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুণ্ডু জানান, পানি এই মুহূর্তে বিপত্সীমার তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় কখনো এক সেন্টিমিটার আবার কখনো দুই-তিন সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়িত মনিটরিং করছি।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার চারটি ইউনিয়েনের ১২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আর ভাঙ্গনের ফলে ৭৬টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। স্কুলসহ ২ শতাধিক বাড়িঘর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে, গত ৯ দিনে ১১৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। বলা হচ্ছে—এটিই চলতি মৌসুমে রাজশাহীর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। পদ্মার পানি বিপত্সীমা ছুঁইছুঁই করছে। দু-এক দিনের মধ্যে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মায় পানি বাড়ছে। এদিকে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, পদ্মায় পানি বাড়লেও শহরে পানি ঢুকবে না। শহরের সঙ্গে সংযুক্ত স্লুইচগেটগুলো শিগিগরই বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা ও চারঘাটের চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, ঈশ্বরদীর পাকশীস্থ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর মঙ্গলবার সকালের দিকে পদ্মার পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার পানি পরিমাপ করার পর এই তথ্য জানা গেছে। ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউপি চেয়ারম্যান রানা সরদার বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে এই এলাকায় পদ্মার পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করেনি। এবার উজানে প্রবল বর্ষণ ও ধেয়ে আসা পানির ফলে পদ্মা নদীর কোমরপুর থেকে সাঁড়াঘাট পর্যন্ত রক্ষা বাঁধের মাত্র ১ ফুট নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, উজান থেকে আসা পানিতে পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ বেড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের হাজার হাজার একর জমির ফসল ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩ হাজার পরিবার। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। স্থানীরা জানান, সোমবার রাতে হঠাত্ করে পদ্মা নদীতে দু-তিন ফুট পানি বেড়ে যায়। ফলে নওসারা সুলতানপুর, দিয়াড়শঙ্করপুর, চাকলা বিনোদপুর, আরাজি বাকনাই, রসুলপুর, বাকনাই, বন্দোবস্ত গোবিন্দপুর, কাগমারী ও লালপুর চরের বসত বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করে। এরপর সময় যত গড়াচ্ছে তত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

এর বাইরে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে হঠাত্ মধুমতী এবং গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি ও দুই দিনের  বৃষ্টির কারণে কামারখালী ইউনিয়নে চরাঞ্চালের ১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।