নাটক ‘ইনডেমনিটি’ প্রদর্শিত

ফারুক আহমেদ

ত্রিশাল সংবাদদাতা

 

ইনডেমনিটির বিষয়টা এখনো অনেক মানুষের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। অনেকের কাছেই এখনো অজানা ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়টি। তাই সর্বসাধারণের কাছে সহজভাবে ইনডেমনিটির বীভত্সতা তুলে ধরার জন্য জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ‘চির উন্নত মম শির’ বেদিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় নিয়ে রচিত নাটক ‘ইনডেমনিটি’।

নাটকটি রচনা করেছেন মান্নান হীরা, নির্দেশনা দিয়েছেন ড. মো. কামাল উদ্দীন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন অধ্যাপক ড. মাহবুব বোরহান। নাটকটি প্রযোজনা করেছে ওয়ান বাংলাদেশ।

ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঘৃণ্য কালো আইন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ঘাতকরা জবাবদিহিতা থেকে বাঁচার জন্য তত্কালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে পুনরায় কুচক্রে লিপ্ত হয়। এর প্রেক্ষিতে ঘাতকদের প্ররোচনা ও ক্ষমতার লোভে রক্ষাকবজ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন খন্দকার মোশতাক।

মূলত এই অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে উক্ত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত কারো বিরুদ্ধে কোর্ট বা আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না এবং রাষ্ট্রপতি উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হবে। ১৯৭৫ সালের পর ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল ইনেডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়। অতঃপর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ইনডেমনিটি বিল বাতিল করা হয়। এরপর থেকে শুরু হয় ১৫ আগস্টের ঘাতকদের বিচার কার্যক্রম। এটাই হলো নাটকের মূল প্রতিপাদ্য।

এ প্রসঙ্গে নাটকের নির্দেশক ড. মো. কামাল উদ্দীন বলেন, ‘ইনডেমনিটি কালো অধ্যায়টিকে পথনাটক আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। নাটকের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অনেকগুলো সাঙ্কেতিক নাম ও ঘটনার উল্লেখ হয়েছে এ নাটকে। অভিনয়ে বর্ণনাত্মক ও চরিত্রাভিনয় উভয় রীতির সংমিশ্রণ লক্ষণীয়। কাজেই সংগীত, বাদ্য, নৃত্য, সংলাপ হচ্ছে এই নাটকের প্রাণ। আমি আশা করি, এই নাটক দেখার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম বিশেষত আমাদের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইনডেমনিটি নামক কালো অধ্যায়টি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা লাভ করেছে।’