প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি

 

হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা,তোমাদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য অনুশীলন পাতায় নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক মডেল প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নসহ  নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হচ্ছে। আশা করি মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করবে, দেখবে পরীক্ষায় সব প্রশ্ন তোমাদের শেখার মধ্যেই রয়েছে।

বাংলা মডেল প্রশ্ন

 

 

 

প্রিয় শিক্ষার্থীরা তোমাদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মডেল প্রশ্নটি দেয়া হলো আশাকরি মনোযোগ দিয়ে সমাধান করবে।

 

সময় : ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট                                                 পূর্ণমান : ১০০

প্রদত্ত অনুচ্ছেদটি পড়ে ১ ও ২ ক্রমিক প্রশ্নের উত্তর লেখ :

আমরা বাঙালি। বাংলাদেশের প্রায় সকল লোক বাংলায় কথা বলে। তবে আমাদের দেশে যেমন রয়েছে প্রকৃতির বৈচিত্র্য তেমনি রয়েছে মানুষ ও ভাষার বৈচিত্র্য। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজন।এদের কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ মুরং, কেউ তঞ্চঙ্গা ইত্যাদি। এছাড়া রাজশাহী আর জামালপুরে রয়েছে সাঁওতাল ও রাজবংশীদের বসবাস। তাদের রয়েছে নিজ নিজ ভাষা। একই দেশ অথচ কত বৈচিত্র্য। এটাই বাংলাদেশের গৌরব। সবাই সবার বন্ধু, আপনজন। এদেশে রয়েছে নানা ধর্মের লোক। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান। সবাই মিলেমিশে আছে যুগ যুগ ধরে। এ রকম খুব কম দেশেই আছে। আবার আমাদের বাংলাদেশের বাইরেও অনেক বাঙালি আছে।

 

১.নিচের শব্দগুলোর অর্থ লেখ (৫টি) :                   ১ ´ ৫ = ৫

ক. ক্ষুদ্র, খ. গৌরব, গ. যুগ, ঘ. বৈচিত্র্য, ঙ. খুব, চ. প্রকৃতি, ছ. বন্ধু।

২.নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ :                 ২ + ৪ + ৪ = ১০

ক.বাংলাদেশে নানা ধর্মের মানুষ কীভাবে বসবাস করে?

খ.বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের ৪টি বিশেষ পরিচয় দাও।

গ.বাংলাদেশের অধিবাসী হিসেবে আমরা গর্বিত কেন? —চারটি বাক্যে লেখ।

 

প্রদত্ত অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪ ক্রমিক প্রশ্নের উত্তর লেখ :

১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি খাজা নাজিমউদ্দীন ঘোষণা করেছিলেন যে, উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এই ঘোষণা ছিল তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। ফলে সর্বত্র শুরু হয় মিছিল-শ্লোগান ও সভা। ৩০শে জানুয়ারি এবং ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। সিদ্ধান্ত হয় যে, ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালিত হবে। সমস্ত ঢাকা শহর ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ এই ধ্বনিতে উত্তাল হয়ে উঠে। সরকার এ আন্দোলনকে ঠেকাবার জন্য সভা, শোভাযাত্রা, গণজমায়েত প্রভৃতি নিষেধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু তরুণ ছাত্ররা সে আইন অমান্য করে ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে মিছিল করে। তাদের সাথে যোগ দেয় দেশের আপামর জনগণ। এই আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেবার জন্য নিরস্ত্র শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর সরকারের তাবেদার বাহিনী গুলি চালায়, এতে শহিদ হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা আরো অনেকে। ২৩শে ফেব্রুয়ারি শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনার নির্মিত হয়। ৫২‘র ভাষা আন্দোলনে বাঙালি জাতির সূর্য সন্তানদের আত্মবিসর্জনের স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। তাই ভাষা শহিদদের আমরা ভুলতে পারি না!

—তাদের জানাই লাখো সালাম।

৩. নিচে কয়েকটি শব্দ এবং শব্দার্থ দেয়া হলো। উপযুক্ত শব্দটি দিয়ে নিচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থান পূরণ কর :       ১´৫ = ৫

শব্দ                    শব্দার্থ    

আন্দোলন                   বিক্ষোভ, আলোড়ন      

নিরস্ত্র                         অস্ত্রবিহীন, অস্ত্রশূন্য       

আপামর                     সকলেই, সাধারণ লোক পর্যন্ত        

বাঙালি                       বাংলাদেশের অধিবাসী 

ঘোষণা                       বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞপ্তি         

তীব্র                           কড়া, উচ্চ  

ক.— ছাড়া কোনো দাবি আদায় হয় না।

খ.— জনতার অংশ গ্রহণে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

গ.প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইসতেহার — করে।

ঘ.বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে — আছে।

ঙ.—মানুষের উপর আক্রমণ করা ঠিক নয়।                          পরের অংশ শনিবার