আবার বিকেএসপিতে
যোগ দিচ্ছেন
দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
সাকিব আল হাসান ভারতে বসে ব্যাটিং নিয়ে সমস্যায় পড়লেন; সমস্যা সমাধানে উড়াল দিলেন বাংলাদেশি কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। মুশফিকুর রহিম ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে কিছু সমস্যা টের পাচ্ছিলেন; নিবিড় কাজ করার জন্য তিনি আশ্রয় নিলেন নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে। এমন করে কোনো ফাস্ট বোলার আবার ছুটে যান সারোয়ার ইমরানের কাছে।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড়রা সমস্যায় পড়লে দেশি কোচদের কাছেই ছুটে যান। কিন্তু সেই দেশি কোচরা কোথায়? সর্বশেষ নাজমুল আবেদীন ফাহিমও চলে গেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে। দেশের শীর্ষ তিন ক্রিকেট মেধা—ফাহিম, সারোয়ার ইমরান বা সালাউদ্দিন এখন বিসিবির কোনো কাঠামোতে নেই। অথচ একটা সময় তারা বিসিবিতেই ছিলেন।
এই যে স্থানীয় কোচদের কাজে লাগাতে না পারা, তাদের জ্ঞানটা ব্যবহার না করা; এটাকে একটা হতাশাজনক ব্যাপার বলে বলছিলেন বিসিবি থেকে একদিন আগেই চলে যাওয়া নাজমুল আবেদীন ফাহিম।
নিজের ব্যাপারেই ফাহিম বলছিলেন, তাকে ঠিকমতো কাজে লাগানো হচ্ছিল না। অন্তত তিনি যেসব কাজ করতে চান, সেগুলো পারেননি বলেই কাজটা ছেড়ে দিয়েছেন, ‘আমি ঠিক জানি না, কেনো আমাকে সেভাবে কাজে লাগানো হচ্ছিল না। তবে এটা বলতে পারি যে, আমার ক্রিকেট নিয়ে কাজ করার, খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার যে প্রস্তুতি ছিল, সেভাবে আমি কাজ করতে পারিনি। আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতেই পছন্দ করি। নিজেকে সেভাবেই তৈরি করেছি। কিন্তু শেষ দিকে আমি ডেস্কের কাজেই আটকে গিয়েছিলাম। ওখানে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ ছিল না।’
এক সময় বিকেএসপির কোচ ছিলেন। এরপর বিসিবিতে নানা ভূমিকায় গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছিলেন ফাহিম। তবে মানলেন যে, শেষ দিকে কাজের সুযোগ একেবারেই সংকুচিত হয়ে পড়েছিল, ‘আমি ম্যাচ রেফারি হিসেবে শুরু করেছি। এরপর জুনিয়র নির্বাচক, সিনিয়র নির্বাচক ছিলাম। এরপর কোচ হিসেবে নানা ধরনের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করেছি। টপ লেভেলের ক্রিকেটারদের নিয়ে যেমন কাজ করেছি, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটারদের নিয়েও কাজ করেছি। সর্বশেষ মেয়েদের ক্রিকেটে আমাকে দেওয়া হয়েছিল। সেখানেও আমি সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এরপর তো ডেস্কে আটকে গেলাম।’
শুধু নিজের ব্যাপারে নয়, স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের যে কোনোভাবেই কাজে লাগানো হচ্ছে না, সেটা নিয়ে যথেষ্ট হতাশ প্রবীণ এই কোচ, ‘আমাদের এখানে এখন তো স্থানীয়ভাবে যথেষ্ট এক্সপার্টাইজ তৈরি হয়েছে। আমি নিজের কথা বলছি না। সালাউদ্দিন বা এরকম অনেকেই আছে। আমরা গত ২০ বছর ধরে অনেক কিছু শিখেছি। আমি জানি না, এই স্থানীয় রিসোর্স কেনো কাজে লাগানো হয় না। জাতীয় দলে না হোক, তার পরের স্তরগুলোতে অনায়াসে কাজে লাগানো যেতে পারে। কারণ, আমাদের এখানকার কোচরাই এই পাইপলাইনের ক্রিকেটারদের সবচেয়ে ভালো চেনেন ও বোঝেন।’
তবে এখানেই থেমে যেতে চান না ফাহিম। তার যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান এই সময়ে জমা হয়েছে, সেটা আবার বিকেএসপির ভেতর দিয়ে ছড়িয়ে দিতে চান, ‘বিকেএসপির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওখানে আমি কাজ শুরু করব। এটা আমার জন্য আনন্দের খবর যে, তারা আমার অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাতে চাচ্ছে। বিকেএসপি এমন একটা প্রতিষ্ঠান, যেখানে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। আশা করি, খেলোয়াড় তৈরি করায় একটা ভূমিকা রাখতে পারব।’