রাজধানীর প্রধান চারটি ব্যস্ততম জায়গা হইল গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ এবং গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল। এই চারটি টার্মিনালই বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। অব্যবস্থাপনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তো রহিয়াছেই, ইহার পাশাপাশি দেখা যায় নানা ধরনের নৈরাজ্য। আর ইহার প্রধান কারণ জায়গার তুলনায় টার্মিনালসমূহের অপ্রতুল ধারণক্ষমতা। একটি সহযোগী দৈনিকে এই বিষয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হইয়াছে, তাহাতে জানা যায় গাবতলী টার্মিনালের বাস ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ পাঁচ শত হইলেও এইখানে প্রতিদিন বাস রাখা হয় সহস্রাধিক। স্বাভাবিকভাবেই বাসের ঘিঞ্জিতে সংকুচিত হইয়াছে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
বর্তমানে গাবতলী টার্মিনাল ব্যবহার করিতেছে পাঁচ সহস্রাধিক বাস। কোনো কোনো সময় যাত্রীসংখ্যা লক্ষাধিক হইয়া পড়ে। স্পষ্টতই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও পরিবহনের কারণে দিন দিন টার্মিনালের পরিবেশ খারাপ হইয়া পড়িতেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াইয়া তুলিতেছে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব। বাংলাদেশের প্রায় সকল বাস টার্মিনালেই অস্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট একটি চিরাচরিত সমস্যা। এমনকি নূতন নির্মিত টার্মিনালসমূহের ক্ষেত্রে কিছুদিন যাইতে না যাইতেই দুর্গন্ধ ও নোংরা হইয়া পড়ে পাবলিক টয়লেট। ইহা অব্যবস্থাপনা ছাড়া আর কিছু নহে। গাবতলী টার্মিনালের ভিতরে যাত্রীদের বসিবার জন্য স্টিলের কয়েকটি স্থায়ী বেঞ্চ আছে বটে, তবে যাত্রীসংখ্যার তুলনায় তাহা নেহাতই সামান্য। টিকিট কাটিবার পর বাসের জন্য অপেক্ষমাণ অনেক যাত্রীকেই এই কারণে বাধ্য হইয়া দাঁড়াইয়া থাকিতে হয়। আর এই ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয় শিশু এবং বয়স্ক যাত্রী। সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) রাজস্ব আয়ের একটি বড়ো উত্স গাবতলী টার্মিনাল। ডিএনসিসি নিয়মিত রাজস্ব আদায় করিলেও ইহার পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণে কম মনোযোগী বলিয়া প্রতীয়মান হইতেছে। ইহার আধুনিকায়নেও এখন পর্যন্ত তাহাদের কোনো পরিকল্পনার কথা জানা যায় না। ঢাকার আরেকটি ব্যস্ততম বাস টার্মিনাল সায়েদাবাদের অবস্থাও গাবতলীর মতোই। এই টার্মিনালের জায়গায় জায়গায় খানাখন্দ। একটু বেশি বৃষ্টি হইলে উহার পরিবেশ আরো নোংরা হইয়া পড়ে। এই কারণে একসময় দূরপাল্লার যাত্রীরা সায়েদাবাদ টার্মিনালটি অধিক ব্যবহার করিলেও বর্তমানে ঢাকার আশপাশের জেলার যাত্রীরাই এই টার্মিনাল বেশি ব্যবহার করেন। আর খারাপ পরিবেশের কারণে দূরপাল্লার উন্নত বাসসমূহের কাউন্টার এই টার্মিনালের বাহিরে সরিয়া গিয়াছে। একইভাবে বেহাল দশা দেখা যায় গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালেরও। পরিসর কমিতে কমিতে টার্মিনালটি এখন রাস্তায় নামিয়া আসিয়াছে। মহাখালী বাস টার্মিনালের অবস্থা অন্য টার্মিনালগুলির তুলনায় কিছুটা ভালো হইলেও ধারণক্ষমতার চাইতে যানবাহনের চাপ এইখানেও অত্যধিক। তাহা ছাড়া মহাখালী টার্মিনালের সামনে দিয়া ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর-মগবাজার মহাসড়ক থাকিবার কারণে মহাসড়কটির এই অংশে দিনভর যানজট লাগিয়াই থাকে।
সংশ্লিষ্ট খাতের কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, শহরের ভিতরে বাস টার্মিনাল থাকিলে এই ধরনের সমস্যা দিন দিন আরো প্রকট হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই কারণে বাস টার্মিনালগুলিকে শহরের প্রান্তিক এলাকায় স্থানান্তর করা জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। তবে এই মুহূর্তে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমেও এই চারটি বাস টার্মিনালকে আরো বেশি যাত্রীবান্ধব করিয়া তোলা সম্ভব।