মাদারীপুর সদর হাসপাতাল
মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুর জেলা সদরে ৫০ শয্যার লোকবল দিয়ে চলছে ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালের কার্যক্রম। চিকিত্সকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে হাসপাতালে আগত রোগীরা সুচিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে, সদর হাসপাতাল ভবনের অনেক স্থানের পলেস্তারা খসে পড়ছে। জানালার গ্রিলে দারুণভাবে মরিচা ধরে ও জানালার কাঁচ ভেঙে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও ব্লাডব্যাংক চালু হয়নি। বিদ্যুত্সংকট প্রকট। হাসপাতালটিতে মাত্র দুইটি ট্রলি রয়েছে। ফলে রোগী বহনে দারুণ সমস্যা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয় দুই শতাধিক রোগী। আসন রয়েছে ১০০টি। বাধ্য হয়েই অন্যান্য রোগীরা মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন অন্তত চার শতাধিক এবং জরুরি বিভাগে শতাধিক রোগী আসে।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তির পিতা জাফরুল্লা মাদবর বলেন, হাসপাতালের ব্লাডব্যাংক অকার্যকর থাকায় ছেলেকে বাধ্য হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যালে প্রেরণ করতে হলো।
শহরের কুলপদ্দি এলাকা থেকে সদর হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য আসা বৃদ্ধা আমেনা বিবি জানান, হাসপাতালে এত ভিড় যে প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিত্সককে দেখাতে পেরেছেন।
কালকিনির বালিগ্রাম এলাকা থেকে জখম নিয়ে আসা মোয়াজ্জেম মোল্লা বলেন, বেড না পেয়ে তিন দিন যাবত্ মেঝেতে শুয়ে চিকিত্সা নিচ্ছি। সদর উপজেলার খোয়াজপুর এলাকা থেকে ডায়রিয়া নিয়ে আসা এক রোগীর মা জহুরা বেগম জানান, দুই দিন যাবত্ হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে রেখেই ছেলের চিকিত্সা চলছে। প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হওয়া এক নারীর মা মর্জিনা বেগম জানান, প্রসূতি বিভাগে পুরুষের অবাধ চলাফেরায় (প্রবেশ) তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, হাসপাতালটিতে ৪০ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রস্তাব ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নিয়োগের জন্য বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।