পূর্বধলায় ১২টি স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

আতঙ্কে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

পূর্বধলা উপজেলায় ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। এর মধ্যে দুইটি বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে এসে আতঙ্কে থাকতে হয়। সেই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে হিরিভিটা ও বিলকাউসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন সাত বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বিকল্প হিসেবে অস্থায়ীভাবে টিনের ঘর নির্মাণ করে এসব বিদ্যালয়ে কোনো রকমে পাঠদান চলছে।

তাছাড়া সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করে আরো ১০টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন জীবনের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয় অন্যদিকে তেমনি পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের কোনোটির দেয়াল দেবে গেছে। কোনোটির দেয়াল ও ছাদে ফাটল, কোনো কোনোটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোনোটির ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। কোনো কোনোটির টিনশেড ঘর নড়বড়ে হয়ে গেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো হলো, বিলকাউসী, পূর্ব জারিয়া, হিরিভিটা, নোয়াগাঁও, নোয়াপাড়া, বোয়ালিয়াকান্দা, পূর্ব পাটরা, দুগাছি, মধুনাল, ধোবারুহি, মজুয়াকান্দা ও বাদে পুটিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব তালিকাভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছাড়াও আরো অনেক বিদ্যালয় ভবন রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। এসব বিদ্যালয়ে একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি ভিতরে পড়ে। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ক্লাস চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।   

হিরিভিটার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার বলেন, সাত বছর আগে একমাত্র পাকা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এলাকাবাসীর সহায়তায় অস্থায়ীভাবে একটি টিনশেট ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কোনো আলাদা কক্ষ না করে এই এক টিনশেড ঘরেই নেওয়া হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস। এতে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সামদানী বলেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব ভবনে পাঠদান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিগিগরই এসব বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ করা দরকার। ভবন পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।