দেশের বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। ভেড়ামারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৬ বছর পর পদ্মার পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করেছে। শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি রক্ষাবাঁধের ৩০ মিটার ধসে গেছে। প্রবল স্রোতে ঝুঁকিতে পড়েছে রাজশাহী শহর রক্ষার ‘টি’ বাঁধ। খবর আমাদের স্টাফ রিপোর্টার, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) :কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলের বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত ১২ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে আরো ৩ সেন্টিমিটার। বুধবার পানি পরিমাপ করার পর এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে সকালে কয়া ইউনিয়নের কালোয়া গ্রামে শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি রক্ষাবাঁধের ৩০ মিটার ধসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৬ বছর পর পদ্মার পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করেছে। পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রধান শাখা গড়াই নদেও অব্যাহতভাবে পানি বাড়ছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে দৌলতপুরের আরো নতুন চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩৯ গ্রামের ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিপুর, বাহাদুরপুর ও বাহিরচর ইউনিয়নে। পাশাপাশি মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ও তালবাড়িয়া ইউনিয়ন ও কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি বাড়তে থাকলে কুষ্টিয়া রক্ষা বাঁধসহ অন্যান্য স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কুন্ডু জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গত দুই দিন ধরে পদ্মায় অস্বাভাবিকহারে পানি বেড়ে চলেছে।
রাজশাহী : উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির প্রবল স্রোতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে জেলা শহর রক্ষা বাঁধের প্রটেকশন ‘টি গ্রোয়েন’। বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫০০ বস্তা জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ লাইনের সামনের বাঁধ রক্ষায় ফেলা হচ্ছে আরো দুই হাজার বস্তা জিও ব্যাগ। এদিকে পদ্মার পানিতে চরাঞ্চল এবং শহরের নিকটবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
রাজবাড়ী :জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের দেবগ্রাম এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার দৌলতদিয়া গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানি বিপত্সীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন অংশে নদী ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। চরম হুমকির মুখে পড়েছে ফেরি ও লঞ্চঘাট। সেই সঙ্গে হুমকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনা। ইতিমধ্যে দৌলতদিয়া প্রান্তের ১ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ৩ এবং ৬ নম্বর ফেরিঘাট।
সুজানগর (পাবনা) :পদ্মার পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সুজানগরে অসময়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে নদীর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে বেশ কিছু কাঁচা, পাকা রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি।
লালপুর (নাটোর) :পদ্মার পানি বাড়ছেই। জেলার লালপুরের তিনটি ইউনিয়নের পদ্মার চরে বসবাসকারী ৩ হাজার পরিবারসহ উপরিভাগের কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।
শিবচর (মাদারীপুর):শিবচরের কাঁঠালবাড়ী, বন্দরখোলা, চরজানাজাত ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন অব্যাহত থাকায় কয়েকটি গ্রাম ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়নের চরের বাতিঘর খ্যাত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান এসইএসডিপি মডেল উচ্চবিদ্যালয়সহ পাঁচটি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাসপাতাল, হাটবাজারসহ ফসলি জমি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে।
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) :পদ্মা-যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি-লঞ্চ চলাচল দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর আরিচা সেক্টর সহকারী পরিচালক ফরিদুল আলম জানান, গত চার দিনে প্রায় দুই ফুট পানি বৃদ্ধির ফলে লঞ্চ চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। উভয়ঘাটে দুই শতাধিক ট্রাক ও অর্ধশত বাস-কোচ পারের অপেক্ষায় রয়েছে।
মহানন্দা ও পুনর্ভবার পানিও বাড়ছে
গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পুনর্ভবা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।