স্বাস্থ্যকর সুন্দর জীবনের জন্য দরকার সুস্থ মন। মন ভালো করার ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হাসি। হাসলে হূদযন্ত্রের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন হয়। হাসিকে বলা হয় আত্মার সাবান। দেহ-মন-আত্মায় জমে থাকা ময়লা, পাপ-পঙ্কিলতা পরিষ্কার করে হাসি।
১৯৯৯ সাল থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম শুক্রবারকে পালন করা হয় ‘বিশ্ব হাসি দিবস’ হিসেবে। ১৯৬৩ সালে শিল্পী হারভে রোজবল হলুদ রঙের বৃত্তের মাঝখানে দুটো চোখ আর একটা অর্ধচন্দ্রবৃত্তের মুখের ছবি আঁকেন। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক ব্যবহারে ব্যাপক পরিচিতি আসে ‘স্মাইলি’র। শিল্পী হারভের এই ‘স্মাইলি’ থেকেই অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ওয়ার্ল্ড স্মাইল ডে-র আবির্ভাব।
গোমড়ামুখো মানুষ আর হাসিখুশি মানুষে পার্থক্য থাকে। মানসিক অস্থিরতা যত বাড়ছে হাসি তত পালিয়ে যাচ্ছে। হাসির সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানসিক, শারীরিক সুস্থতা ও ভালোমন্দের ব্যাপার।
হাসি একটি প্রাকৃতিক ওষুধ, আবেগকে সহজে স্পর্শ করে, করে সংক্রমিতও। শরীর গঠনে মনকে চাঙা, দেহকে সুস্থ রাখতে হাসির বিকল্প কিছুর পরামর্শ এখনো দিতে পারেননি মনোবিজ্ঞানীরা। গবেষকদের মতে, টি নামক সেলের কার্যকারিতা বা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে হাসি। টি সেল রোগ প্রতিরোধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে, মনখুলে হাসার ফলই নাকি রোগভোগ আশঙ্কা পালিয়ে যাওয়া। মনোবিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখিয়েছেন রাগ, হতাশা, দুঃখ এসব থেকে উত্তরণের একমাত্র দাওয়াই কারণে অকারণে হাসি। হাসির ফলে নাকি সেরাটোনিন ও এন্ডোরকিন নামক হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এতে মানসিক শারীরিক যন্ত্রণা হয় নিমিষেই উধাও।
পুষ্টিবিজ্ঞানীরা হাসিকে মনের পুষ্টির অন্যতম উত্স হিসাবে বিবেচনা করেছেন। হাসির ফলে ফুসফুস তাজা হয়। বিশুদ্ধ অক্সিজেন প্রবাহিত হয় সারা শরীরে। আমাদের কর্মক্ষমতা বাড়ে। নানাভাবে শ্বেত রক্তকণিকার উত্পাদন বাড়তে থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। কোনো জীবাণু ছুঁতে পারে না। সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।
চিকিত্সকদের গবেষণায় প্রমাণিত যে হাসলে রক্তচলাচল বাড়ে, রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়। ফলে শিরা-ধমনির ওপর স্বভাবতই চাপ কমে, ফল হয় ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ, কমতে থাকা। তাঁরা গোমড়ামুখকে বেজায় বিপদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হাসির প্রভাব আমাদের শরীরে ৩০ থেকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত কার্যকর থাকে। শরীর-মন শান্তিতে থাকে।
হাসি নিয়ে সব গবেষণায় একটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তা হলো প্রাণখুলে হাসা। ‘মুচকি’ শব্দটিকে বিপজ্জনক হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। ঠোঁটে মিথ্যা হাসির সৌজন্যকে করা হয়েছে উপহাস। জীবনকে আনন্দময় করতে উপভোগ্য করতে প্রাণখোলা হাসির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
হাসির সব আয়োজন কিন্তু আমাদের দেহ-মন-শরীরকে প্রশান্তি দিতে, নীরোগ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে। সব আলোচনার তাত্পর্য হলো—হাসি ফুটুক সবার মুখে, বিশ্ববাসী থাকবে সুখে। অনেক দিবসের ভিড়ে আমরা গুরুত্বপূর্ণ হাসি দিবসটিকে যেন ভুলে না যাই। হাসিই যে আমাদের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে, তার গুরুত্ব হূদয়ে ধারণ করতে হবে, উপলব্ধি করতে হবে। সবাইকে স্বার্থহীন ভালোবাসা দিতে পারলেই আমাদের মুখে নির্মল হাসি ফুটবে। অক্ষমতাতেও ভারাক্রান্ত হবো না, আত্মতৃপ্তির হাসি খুঁজে পাবো।