চিতলমারীতে প্রায় ২ লাখ মানুষের চিকিত্সাসেবার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র দুই জন ডাক্তার রয়েছেন। এখানে ১০ জন চিকিত্সকের সাতটি পদই শূন্য। বর্তমানে তিন জন ডাক্তারের মধ্যে একজন আবার রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। দীর্ঘদিন ধরে ৫০ শয্যা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, গরিব রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অভিজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে এখানে নার্স দিয়ে শিশু রোগী চিকিত্সারও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৬৩টি ওয়ার্ডের ১২৮টি গ্রাম থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাসেবা নিতে আসেন। এদের অধিকাংশই অসহায় ও গরিব। বর্তমানে এখানে মোট ১৪২টি পদের মধ্যে ৩৮টি পদই শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র তিন জন কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে একজন আবার রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। এখানে বর্তমানে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), মেডিক্যাল অফিসার ও ডেন্টাল সার্জনের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
এছাড়া সহকারী সার্জন পদ চারটি, পরিসংখ্যানবিদ একটি, ক্যাশিয়ার একটি, স্টোরকিপার একটি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) একটি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফী) একটি, ফার্মাসিস্ট একটি, সহকারী নার্স একটি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক দুইটি, স্বাস্থ্য সহকারী ১০টি, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার দুইটি, এমএলএসএস তিনটি, আয়া একটি, কুক/মশালচি একটি, সুইপার একটিসহ মোট ৩৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে ৫০ শয্যা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, গরিব রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গ্রামের এক শিশু রোগীর পিতা মো. ইদ্রিস আলী ফকির ক্ষোভের সঙ্গে জানান, তার ছেলেকে নার্স দিয়ে চিকিত্সা সেবা দিতে গেলে তিনি ঝগড়াঝাটি করে চলে আসেন। চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আলমগীর জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, নার্স দিয়ে কখনো শিশুদের চিকিত্সা করানো হয় না। অভিজ্ঞ নার্সদের দিয়ে সিরিয়াল ম্যানেজ করা হয়।