ইরাকে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত ১৮, কারফিউ জারি

ইরাকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গল ও বুধবার সহিংসতায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

কর্মসংস্থানের অভাব, নিম্নমানের সেবা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাজধানী বাগদাদসহ ইরাকে বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমদিকে সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নামলেও পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদুনে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করার পর বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত দুই ব্যক্তি নিহত হন। এরপরই বিক্ষোভ দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার নাসিরিয়াতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সাত বিক্ষোভকারী এবং এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। এছাড়া আমারা শহরে আরো চার জন নিহত হয়েছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পুলিশ ও বিক্ষোভকীরাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছে। এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মেহেদী ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই দেশ জুড়ে সবচেয়ে বড়ো বিক্ষোভ।

বৃহস্পতিবার সকাল পাঁচটা থেকে বাগদাদ ও সহিংসতাপূর্ণ অন্য শহরগুলোতে কারফিউ জারি করেন প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মেহেদী। এক বিবৃতিতে আবদুল মাহদি বলেন, বাগদাদে সব ধরনের যান এবং মানুষ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। তবে এই কারফিউয়ের আওতায় থাকবে না বিমানবন্দরে আসা ভ্রমণকারী, অ্যাম্বুলেন্স, সরকারি হাসপাতালের কর্মচারী, বিদ্যুত্ এবং পানি বিভাগ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। 

বৃহস্পতিবার ভোরে কারফিউ শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বাগদাদের বিভিন্ন এলাকায়  টহল শুরু করে; কিন্তু এর মধ্যেও রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভ থামাতে নিরাপত্তা বাহিনী তাজা গুলি চালিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইন্টারনেটসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।