পাক-ভারত পরমাণুযুদ্ধ হলে প্রাণ হারাতে পারে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ। গত বুধবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণুযুদ্ধ হলে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের ফলে যে ঘন মেঘ তৈরি হবে, তা ভেদ করে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারবে না বলে ফসল ফলবে না। এর ফলে অনাহারে মারা যাবে কোটি কোটি মানুষ। খবর এএফপির
গবেষণা প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্রতর হয়েছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে দুই দেশই একাধিকবার যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং উভয় দেশই তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির গতি দ্রুত করেছে। উভয় দেশের কাছে বর্তমানে ১৫০টি পরমাণু বোমা রয়েছে, যা ২০২৫ সাল নাগাদ দুই শতাধিকে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে গবেষকেরা বলছেন, মূলত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করেই দুই দেশ পরমাণুযুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে। গবেষণা প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক অ্যালান রোবক বলেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালে পরমাণুযুদ্ধ হলে এর জেরে ক্ষয়ক্ষতিটা শুধুই যে এই এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়, এর মূল্য দিতে হবে গোটা বিশ্বকেই।’
গবেষকেরা আরো বলছেন, বোমা বিস্ফোরণের ফলে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৬০ লাখ টন ওজনের ঝুল-কালিতে ঢেকে যাবে আকাশ, যা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে পৌঁছাতে সময় নেবে কয়েক সপ্তাহ। এ কারণে গোটা বিশ্বের বিশাল একটি অংশে সূর্যের আলো পৌঁছাবে না।
গবেষণায় বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের ফলে সূর্যালোকের ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ আলো কম পৌঁছাবে পৃথিবীতে। এতে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমে যাবে ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টিপাতের পরিমাণও কমে যাবে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ। এর প্রভাবে ফসল উত্পাদন কমে যাবে। প্রভাব পড়বে গাছপালার ওপরও। সেই যুদ্ধে পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের ফলে বায়ুমণ্ডলে যে ঝুল ও কালির মেঘ জমবে, তা কেটে যেতে সময় লাগবে কমপক্ষে ১০ বছর। সময়টা আরো বেশিও লাগতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
তবে গবেষকেরা বলছেন, সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হবে যদি এই যুদ্ধে ১০০ কিলোটন ওজনের বোমা ব্যবহার করা হয়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহূত বোমার চেয়ে ছয় গুণেরও বেশি শক্তিশালী।
তারা আরো বলছেন, পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের ক্ষয়ক্ষতি দুই থেকে তিন গুণ বেশি হবে। কারণ পাকিস্তান ভারতের চেয়ে বেশি বোমা ব্যবহার করবে এবং জনসংখ্যার ঘনত্বও ভারতের বেশি। রোবক বলেন, ‘আমি আশা করছি, আমাদের এ কাজ পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার না করার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করবে।