যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বের উদ্বেগ সত্ত্বেও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে কিম জং উনের উত্তর কোরিয়া। দেশটি নিশ্চিত করেছে যে, তারা বুধবার সাবমেরিন থেকে একটি নতুন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে পরমাণু আলোচনা শুরুর আগ মুহূর্তে দেশটি এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল।
কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় সেখানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি এ পরীক্ষার জন্য দেশের বিজ্ঞানীদেরকে উষ্ণ অভিবাদন জানিয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বাঞ্চলীয় ওনসান শহরের কাছে সমুদ্রে অবস্থিত সাবমেরিন থেকে ছোড়া হয়। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছিল, পিয়ংইয়ং একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে এবং সম্ভবত সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের পানিসীমার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে গিয়ে পড়ে।
কেসিএনএ বলেছে, সাবমেরিন থেকে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সফল হওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যখন ‘শত্রুরা’ নানামুখী চাপ সৃষ্টি করছে তখন উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যাপারে এ ক্ষেপণাস্ত্র অনেক বড়ো ভূমিকা রাখবে। তবে প্রতিবেশীদের জন্য এটি কোনো হুমকি নয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে একে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাশ হওয়া প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়াও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এ ক্ষেপণাস্ত্র এ বছর উত্তর কোরিয়ার ১১তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। আগেরগুলো ভূমি থেকে পরীক্ষা চালালেও এবার সাবমেরিন থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে উত্তর কোরিয়া তাদের সক্ষমতা আরেকবার বিশ্বকে দেখাল। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উড়ে গিয়ে সাগরে পড়ার আগে সমুদ্রস্তরের ৯১০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল।