চেতনানাশক মেশানো জুস খেয়ে প্রাণ গেল মেধাবী ছাত্রী সুস্মিতার

বিষাক্ত জুস পান করে প্রায় অর্ধমাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে গত বুধবার রাতে চলে গেলেন মেধাবী ছাত্রী সুস্মিতা হোম চৌধুরী মন্টি। মাস খানেক আগে ময়মনসিংহ ব্রিজ মোড় থেকে দুই শিশু হকারের কাছ থেকে প্রাণ ফুটিক্স জুস কিনেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে তাকে অচেতন করে মালামাল ছিনিয়ে নিতে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক কোনো দ্রব্য মেশানো হয়। জুসটি সঙ্গে সঙ্গে না খেয়ে ১৫ দিন পর ওই জুস খান তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে বিষক্রিয়ার মাত্রাও বাড়ে। তারপর থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

নিহত সুস্মিতা ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কদিম ডৌহাখলা গ্রামের সুবীর হোম চৌধুরীর (কাঞ্চন হোম চৌধুরী) মেয়ে। তিনি মুমিনুন্নেছা কলেজ থেকে গণিত বিষয়ে প্রথম শ্রেণি পেয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন।

চিকিত্সকদের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, জুসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো থাকায় তা সুস্মিতার গলা ও শ্বাসনালীতে ক্ষত সৃষ্টি করে। এতে তার  কিডনি, লিভারসহ একাধিক অঙ্গ অচল হয়ে পড়ে।

সুবীর হোম চৌধুরী বলেন, ময়মনসিংহ ব্রিজ এলাকায় সেদিন দুটো শিশু প্রাণের ফুটিক্স জুস কিনতে অনুনয়-বিনয় করে সুস্মিতাকে। কিনে জুসটি ব্যাগেই রেখে দেয়। এই জুসের বোতল নিয়ে আবারও ঢাকা, বোনের বাড়ি এবং আত্মীয়দের বাড়িতেও ঘুরে আসে। ১৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। তার আগে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ব্যাগ গোছাতে গিয়ে সেই জুসের বোতল দেখতে পায়।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডা. রবিউল ইসলাম ছাড়পত্রে উল্লেখ করেছিলেন, ১৩ দিন পূর্বে রাস্তার পাশের কোমলপানীয় পানে তার শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ কারণে তার কিডনি, লিভারসহ একাধিক অঙ্গ অচল হয়ে যায়।

সুস্মিতার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় ২ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে ত্রিশাল এলাকায় সুস্মিতা হোম চৌধুরী মন্টি মারা যান।

সুবীর হোম চৌধুরী তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তারের অবহেলাকেও দায়ী করেন। এ বিষয়ে হাসপাতালে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা ডা. মো. হিবরুল বারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে, রোগীর মৃত্যুর ব্যাপারে ডা. রবি বলতে পারবেন বলে লাইন কেটে দেন। হাসপাতালের অভিযোগ নাম্বারে গতকাল বিকালে ফোন দিলে বলেন, অভিযোগ সম্পর্কে এ মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।