আসন্ন দুর্গাপূজায় কোনো ধরনের সহিংস হামলার আশঙ্কা নেই। এ ধরনের কোনো গোয়েন্দা তথ্যও নেই। তবু সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি ডিএমপির আট থানার ওসিদের বদলি একটা রুটিনওয়ার্ক বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজধানীতে ২৩৩টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এছাড়া পারিবারিক কিছু মণ্ডপও রয়েছে। আমরা চারটিকে বিশেষ মণ্ডপ হিসেবে ধরেছি। এগুলো হলো ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মন্দির, ধানমন্ডি পূজামণ্ডপ ও বনানী সার্বজনীন পূজামণ্ডপ। এগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তার জন্য আর্চওয়ে থেকে শুরু করে সিসিটিভি থাকবে।’
এছাড়া ঢাকায় পাঁচটি বড়ো মন্দির রয়েছে—সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, রমনা কালীমন্দির, উত্তরা সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, বসুন্ধরা সার্বজনীন পূজামণ্ডপ ও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের একটি পূজামণ্ডপ। এগুলোতেও সিসিটিভিসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া দুই তারকা চিহ্নিত ৮৬টি পূজামণ্ডপ, এক তারকা চিহ্নিত ৭৭টি এবং সাধারণ শ্রেণির ৬১টি মণ্ডপ রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। ২৩৩টির বাইরেও পারিবারিক যেসব পূজামণ্ডপ রয়েছে, তারা চাইলে আমরা নিরাপত্তা দেব। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের কন্ট্রোলরুমসহ সব জায়গায় আলাদা ফোর্স থাকবে।’
ডিএমপির প্রধান বলেন, পূজায় ইভ টিজিং ও মাদক নিয়ে নাচানাচি বন্ধ এবং সারা শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেসব পূজামণ্ডপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ ভিভিআইপিরা যাবেন, সেখানে এখন থেকেই আমাদের সার্ভিলেন্স রয়েছে। প্রতিটি স্থাপনা সুইপিং করা হবে। এছাড়া রুফটপ থেকে শুরু করে পুরো রাস্তায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। একইভাবে বিসর্জনের দিন নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পৌঁছাবে। সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।