অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শিক্ষক আশরাফুল ঐ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলহাজ হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে। এ ঘটনায় তিন দিন ধরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করে গতকাল বৃহস্পতিবার যান চলাচল বন্ধ করে সাহরাইল সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছে এলাকার সর্বস্তরের লোকজন। মানববন্ধনে এলাকাবাসী ও কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষক আশরাফুল গত মঙ্গলবার দুপুরে প্রাইভেট পড়ানোর অজুহাতে ঐ শিক্ষার্থীকে তার বাসায় ডেকে নেন। এরপর তাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি করে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচামা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে মানববন্ধন উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি এসে তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যেতে বলেন। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রতিবাদকারীরা ২য় দফায় প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ ঘেরাও এবং স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান ও প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাদের অপসারণ দাবি করে মারমুখী হয়ে ওঠে প্রতিবাদকারীরা।
তবে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া মাত্র একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঐ শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার দিন আশরাফুল স্যার টিফিনের সময় তার বাসায় আমাকে একা যেতে বলেন নোট বই দেবেন বলে। তিন বান্ধবীকে নিয়ে আমি তার বাসায় গেলে একটি কক্ষে নিয়ে কথা আছে বলে স্যার আমাকে জড়িয়ে ধরেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মিথ্যা এবং আমি ষড়যন্ত্রের স্বীকার।