দেশি-বিদেশি ব্যাংকে নিজের ও স্ত্রীর নামে গচ্ছিত আছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে যুবলীগ নেতা ও টেন্ডারবাজ খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার কাছ থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।
খালেদের দেওয়া তথ্য মতে, অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রেখেছেন তিনি। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার আরএইবি ব্যাংকে ৬৮ লাখ টাকা জমা রয়েছে। সিঙ্গাপুরের ইউওবি ব্যাংকে দেড় কোটি টাকা, ব্যাংক অব ব্যাংককে এক লাখ বাথ, বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ৬ থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকে আড়াই কোটি টাকা, এনসিসি ব্যাংকে নিজের নামে ১৯ কোটি টাকার এফডিআর, ব্র্যাক ব্যাংকে স্ত্রী সুরাইয়া আক্তারের নামে ৫০ লাখ টাকা, এনসিসি ও ব্র্যাক ব্যাংকে অর্পণ প্রপার্টিজের নামে ১৫ লাখ টাকা করে ৩০ লাখ টাকা গচ্ছিত রয়েছে।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে সুমন নামে একজনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক শীর্ষ নেতাকে ৬০ লাখ টাকা দেন। আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতাকে পূর্বাচলের একটি প্রজেক্টের জন্য ৫ কোটি টাকা দেন। যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ একজন নেতাকে সম্প্র্রতি ৫০ লাখ টাকা ও আরেকজন পলাতক নেতাকে ৪০ লাখ টাকা দেন তিনি। এছাড়া, আওয়ামী লীগের দুই জন মধ্যম সারির নেতাকে দুই কোটি টাকা, যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতাকে দুই দফায় ২০ লাখ টাকা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও ডিবির একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনারকে নিয়মিত টাকা দিতেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা খালেদের ক্যাডার বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠদের নাম জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে গোরানের কাউন্সিলর আনিস ও তার সহযোগী পিচ্চি রুবেল, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ, তার সহযোগী হাসান উদ্দিন, আরামবাগ ক্লাবের প্রহরী জামাল ও কাজিন সুমন তার অন্যতম সহযোগী ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানিয়েছেন, গোরানের রাউফুল আলম শুভ (বহিষ্কৃত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক)-এর কাছে ৪/৫টি বিদেশি পিস্তল রয়েছে। এছাড়া ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রিজভী, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের এনামুল হক আরমান ওরফে ক্যাসিনো আরমান, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ উত্তরের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম সোহেল ওরফে ক্যাসিনো সোহেল, রানা মোল্লা, ক্যাসিনো বকুল, ল্যাংড়া জাকির ও ড্রাইভার জিসান তার অন্যতম সহযোগী ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ অন্য যেসব নেতার নাম বলেছেন : ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের নেতা বিএম ফরহাদ অংকুর, আরিফুল ইসলাম লাবলু, রামপুরার আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামি রইছ, খিলগাঁওয়ের শাহাদত হোসেন সাধু, ১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা কবির, শাজাহানপুরের পোল্ট্রি রিপন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা সেলিম, ১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের শীর্ষ নেতা রিভি, রামপুরার রনি, মগবাজারের সজীব, শাজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের নেতা আমিনুল ইসলাম রাজু, ১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহার বাবু, খিলগাঁও থানা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা কাজী, পল্টন থানা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা মাহবুবল হক হীরক, মতিঝিল এজিবি কলোনির আমিনুল, শাজাহানপুরের উজ্জ্বল মোর্শেদ, রুবেল ওরফে মোটা রুবেল, রামপুরা-মগবাজারের মাসুদ, তুহিন, ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল, ১২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা মাজহারুল ইসলাম তুহিন। এরকম প্রায় ১০০ জনের নাম বলেছেন জিজ্ঞাসাবাদে।