মাহবুব শরীফ
গত ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর । ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হয় নিউ ইয়র্কের লা গার্ডিয়া মেরিয়ট হোটেলে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিবেশমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এসডিজি-বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশের কনসোল জেনারেল সাদিয়া ফাইজুন্নেছা।
জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনের সাইড ইভেন্টের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশের আইসিটি খাতে বিনিয়োগ করুন এবং হাই-টেক পার্ক ও এসটিপিএসে কোম্পানি খুলুন। বাংলাদেশ সরকার ২৮টি হাইটেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক তৈরি করছে। দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। আপনারা চাইলে ইনোভেটিভ স্টার্টআপগুলোতেও বিনিয়োগ করতে পারেন। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে, হাইটেক পার্ক বা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের আওতায় বিনিয়োগ করলে আপনারা বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলোর মধ্যে একটি হলো—আপনারা ট্যাক্স হলিডে ভোগ করতে পারবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশে আপাতত আউটসোর্সের কাজ করতে পারেন। তাদের কোম্পানির ওয়েবসাইট, ইমেইল সার্ভার, মোবাইল অ্যাপসসহ অ্যাকাউন্টিং ও পেরোল প্রসেস দিয়ে শুরু করতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে যে কোয়ালিটির সেবা পাচ্ছে তার চেয়ে কম কম খরচে বাংলাদেশে ভালো কোয়ালিটির আউটপুট পাওয়া যাবে। আপাতত ছোটো ছোটো কাজ দিয়ে শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো সম্পর্কে আস্থা তৈরি হবে, যা আপনাদের প্রবাসী বন্ধু ও সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। ’
বাংলাদেশের স্কিলড ডেভেলপমেন্টে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্কিলড ডেভেলপমেন্টে বিনিয়োগ করুন। প্রবাসীদের আমি অনুরোধ করেছি, যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও ইউনিভার্সিটিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোর সেতুবন্ধ তৈরি করুন অথবা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহযোগিতা করুন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য আগামী কয়েক বছরে পোশাকশিল্পে বেকরত্ব বাড়তে পারে। তাদের পরিচর্যা ও ট্রেনিংয়ের জন্য ইনস্টিটিউট করতে পারেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এটিই হবে উপযুক্ত পদক্ষেপ। বাংলাদের জন্য নতুন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি খুব প্রয়োজন। সুতরাং প্রবাসী বাংলাদেশিদের উচিত এই খাতে বিনিয়োগ করা।’