আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা না থাকায় খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের উত্পাদিত পাটজাত পণ্য গত প্রায় দুই বছর ধরে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ফলে পাটকলগুলোতে অবিক্রিত পণ্যের মজুত বাড়ছে। বর্তমানে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে ৩০ হাজার মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য মজুত রয়েছে। যার বাজার মূল্য পৌনে ৩০০ কোটি টাকা। এদিকে আর্থিক সংকটের কারণে মিলগুলো প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কিনতে পারছে না।
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের ক্রিসেন্ট জুট মিল, প্লাটিনাম জুবিলি, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, স্টার জুট মিল, ইস্টার্ন জুট মিল, আলিম জুট মিল, জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিল এই নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উত্পাদিত পণ্য মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইরান, সৌদি আরব, জাপান, সুদান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রিয়াসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু উক্ত রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে পাটজাত পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ফলে পাটকলগুলোতে দিন দিন পাটজাত পণ্যের মজুত বাড়ছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের ৯টি পাটকলে ৩০ হাজার ২২০ মেট্রিক টন রপ্তানিযোগ্য পাটজাত পণ্য মজুত রয়েছে। এসব পণ্যের বর্তমান বাজার মূল্য ২৭৬ কোটি ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে কিছু কিছু পাটজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরে নয়টি পাটকলের জন্য কাঁচা পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৩ কুইন্টাল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাঁচা পাট কেনা হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২৯ কুইন্টাল। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২০ শতাংশ। এই মজুত কাঁচা পাট দিয়ে কার্পেটিং জুট মিল সর্বোচ্চ ১০১ দিন এবং সর্বনিম্ন স্টার জুট মিল ৯ দিন উত্পাদন চালু রাখতে পারবে।
বিজেএমসি সূত্র জানায়, পাটকলগুলোর কাছে পাট ব্যবসায়ীদের পাওনা রয়েছে ১৮৭ কোটি ৬১ লাখ ৬ হাজার টাকা। অর্থাভাবে মিলগুলো দীর্ঘদিন ধরে পাট ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় কাঁচা পাট মিলগুলোতে সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
অপরদিকে, পাটজাত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় বর্তমানে পাটকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের সাত সপ্তাহের মজুরি ও বেতনসহ ৩২ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া ২৬ কোটি ৩৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এছাড়া মিলগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া পড়েছে ৬ কোটি ৮১ হাজার টাকা। এ অবস্থায় শ্রমিকদের পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকতে হচ্ছে।
প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, শ্রমিকদের আট সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। যে কারণে অর্থকষ্টে শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
বিজেএমসির খুলনা অঞ্চলের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা বনিজউদ্দিন মিঞা বলেন, শ্রমিকদের সাত সপ্তাহের মজুরি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন মাসের বেতন প্রায় ৪২ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।