রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ’ সিনেট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া আইন বিভাগের আলোচিত নিয়োগ বাণিজ্যের আর্থিক লেনদেনের ইসলামী ব্যাংক রাজশাহী শাখার একটি হিসাব নম্বরসহ ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত’ উপস্থাপন করেন। এসময় তিনি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপ-উপাচার্যের উপস্থাপিত ইসলামী ব্যাংক রাজশাহী শাখার ‘ডিসেন্ট ট্রেডার্সে’র সংশ্লিষ্ট ২০৫০১১৩০১০০৩৯২৭১৩ হিসাব নম্বরটি রহস্যজনক কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গত ২ অক্টোবর উপ-উপাচার্য তাকে জড়িয়ে খবরে প্রতিবাদপত্রে ইসলামী ব্যাংক রাজশাহী শাখার হিসাব নম্বরটি উল্লেখ করার পর সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সরবরাহকৃত ঐ ব্যাংক হিসাবে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে বন্ধের আগ পর্যন্ত প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য রয়েছে। উল্লিখিত হিসাবের পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান।
অন্যদিকে উপ-উপাচার্যের উপস্থাপিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে স্বীকার করেছেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান। তবে তিনি দাবি করেছেন, ‘ব্যাংক হিসাবটি তাদের একটি যৌথ হিসাব। ব্যবসায়িক কারণে গত বছরের ৪ নভেম্বর নিয়োগপ্রত্যাশী নুরুল হুদার মাধ্যমে তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পরেই তিনি ঐ টাকা নুরুল হুদাকে ফেরতও দিয়েছেন। তিনিও নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
উপ-উপাচার্যের সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, ডিন, হল প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়কসহ বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।