ভাঙনের হুমকিতে বেশ কয়েকটি
গ্রাম ও ইকোনমিক জোন
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ইজারা ছাড়াই ৮/১০টি শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মালিগাঁও, হাড়িয়া, গোবিন্দি হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া সোনামুইসহ অনেক গ্রাম চরম হুমকির মুখে রয়েছে। কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার হাটটিও ধ্বংসের পথে। এছাড়া মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত আমান ইকোনমিক জোন ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।
এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আনন্দবাজারের ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, নদীপথে আগে বাঁশ মুলি আনতে খুব সহজ হতো এখন খুব কষ্ট হবে। চরা জায়গায় বাঁশ মুলি আনা নেওয়া ও বিক্রি করতে সহজ হতো। বাজারের কিনার কাটার ফলে নদীতে প্রচুর ঢেউ দেখা যায়। যার ফলে ক্রেতা আসে কম। অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, যেভাবে বালি কাটা শুরু করেছে মনে হয় এ বাজার আর টিকবে না। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এসব বালু উত্তোলনকারীদের দাপটে অনেকটা কোণঠাসা প্রশাসনও। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সোনারগাঁওয়ের সোনামুই, গোবিন্দি এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নুনেরটেক এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সোনামিয়া, রমজান আলী, আমির, দুদু মিয়া, আব্দুর রহিম, তোতা মিয়া, লতিফ মিয়া, সামসুল হক, শামসুদ্দিন, আব্দুর রশিদ, রমু মিয়া, আলমাছসহ ২০ জনের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রঘুনারচর, গুচ্ছগ্রাম, সবুজবাগ ও আশপাশ এলাকার শতাধিক পরিবারের ঘর, ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে কোনোভাবেই ভাঙন রোধ করা যাবে না।
সরেজমিন মেঘনা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর সোনামুই, আনন্দবাজার এলাকা ও আমান ইকোনমিক জোনের পাশে অনেক শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। প্রায় ২০-২৫টি বাল্কহেড বালু নেওয়ার জন্য ভিড় করেছে। এলাকায় একটি ট্রলারযোগে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা দিচ্ছে বালু উত্তোলনকারীদের সন্ত্রাসী বাহিনী।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার জানান, বালু উত্তোলনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।