শিক্ষা নিয়ে ফিরেছে অনূর্ধ্ব-২৩ দল

স্পোর্টস রিপোর্টার

ভারতের লখনৌতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সফরটা ঠিক আশাবাদ ছড়াতে পারেনি। যদিও সফর শেষ করে ফেরা দলের অধিনায়ক সাইফ হাসান অবশ্য নিজেদের লড়াইয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ভারতের স্পোর্টিং উইকেটে খেলাটাকে ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি পাওনা হিসেবে দেখছেন।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল ভারতীয় দল। আর তৃতীয় ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে সিরিজে ফেরার ইঙ্গিত দেয় বাংলাদেশ। তবে চতুর্থ ম্যাচে চার উইকেটে হেরে সিরিজ হাতছাড়া হয় অনূর্ধ্ব-২৩ দলের। সিরিজের পঞ্চম এবং শেষ ম্যাচটা বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়। ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেও ইতিবাচক অনেক দিক খুঁজে পেয়েছেন সাইফ। তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক অনেক দিক ছিল। যদিও আমরা সিরিজ জিততে পারিনি। আমাদের শুরুটা ভালো ছিল। আমরা ওদেরকে ১৮০ রানে অলআউট করেছি। ওখানে আমাদের সুযোগটি নেওয়া দরকার ছিল। জেতা ম্যাচ ছিল। ব্যাটসম্যানরা মানিয়ে নিতে পারেনি। আমরা কলাপ্স করে ফেলেছি। পরে কামব্যাক ভালো ছিল। সব মিলিয়ে ব্যাটসম্যানরা তেমন পারফর্ম করতে পারেনি। টপ অর্ডার যদি ক্লিক করত, তাহলে আরো একটা-দুটা ম্যাচ বেশি জিততাম। বোলাররা খুব ভালো বোলিং করেছে, আর ফিল্ডিংও বেশ ভালো ছিল।’

সাইফ মনে করছেন, সিরিজের ফলাফলটাতে আসলে বাংলাদেশের লড়াইটা পরিষ্কার হয়নি। বললেন, ‘৩-১-এ হেরেছি। তবে যেটা ওরাও বলেছে, আমরাও বলি—প্রতিযোগিতা হয়েছে। চারটি ম্যাচেই প্রতিযোগিতা হয়েছে। বয়সভিত্তিক দল হিসেবে আমরা সবসময় ভারতের সঙ্গে ভালো খেলেছি। এবারও অনূর্ধ্ব-১৯ ভালো খেলেছে ভারতের সঙ্গে। হারজিত তো থাকবেই। তবে আরেকটু ভালোভাবে পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে খেলতে পারলে জয় বেশি পাওয়া যাবে।’

সাইফের ইতিবাচক থাকার কারণ অবশ্য আরো আছে। প্রতিপক্ষ, উইকেট সব কিছুই শিক্ষণীয় ছিল দলটির জন্য। তিনি বলেন, ‘ওখানে উইকেট খুব ভালো ছিল। স্পোর্টিং উইকেট ছিল। খেলে বেশ মজা পেয়েছি। ওদের দলটাও বেশ ভালো ছিল। ওদের ক্রিকেটারদের চিনি। আগে বয়সভিত্তিক দলে খেলে এসেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ বা ইমার্জিং দলে খেলেছি। ওখানে খেলে মজা পেয়েছি। স্পোর্টিং উইকেট ছিল, বাউন্স হচ্ছিল, আবার স্পিন ধরছিল। সব মিলিয়ে ভালো ছিল।’

হারের কারণ জানাতে গিয়ে সাইফ বলেন, দলের ফিল্ডিংয়ে এখনো কিছু ঘাটতি আছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ফিল্ডিংয়ে আমাদের উন্নতির জায়গা আছে। ওদের ফিল্ডিং বেশি ভালো ছিল। খেলাটা বেশ প্রতিযোগিতামূলক ছিল। ওরাও এই কথাই বলেছে। ফলাফল বিষয় না। ওরা জিতেছে ৩-১ এ। কিন্তু চারটি ম্যাচেই ভালো লড়াই হয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো ছিল।’

তিনি মনে করেন, ব্যাটিংয়ে বড়ো কিছু স্কোর গড়তে পারলে হয়তো সিরিজের চেহারাটাই অন্যরকম হতো।

বললেন, ‘আমরা যারা ওখানে ছিলাম, সবাই ভালো শুরু করতে পারছিলাম। শুধু ইনিংস বড়ো করতে পারছিলাম না। আমরা যদি ইনিংস বড়ো করতাম তাহলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। যে ম্যাচে আমরা জিতেছি, সেখানে আমাদের উদ্বোধনী জুটি ১২ ওভারে ৬০ রান ছিল। তো ঐ ম্যাচটি আমাদের ভালো  গেছে। আমার মনে হয় ওপেনিং থেকে শুরু করে আমরা তিন-চার জন যদি খেলাটা ধরতাম তাহলে ফলাফল অন্যরকম হতো।’