যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা
কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা
কাপ্তাই-বড়াদম সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের চূড়ার ওপর দিয়ে তৈরি করা এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় বড়ো গাড়ি (বাস ও ট্রাক) চলাচল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। ছোটো গাড়ি (মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা) কোনোমতে চলাচল করছে। সড়কের বড়াদম অংশে দুই স্থানে ভাঙনের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত স্থানে বালুর বস্তা ফেলে রাখা হয়েছে। অনেক স্থানে লাল পতাকা লাগিয়ে রাখা হয়েছে।
অটোরিকশাচালক মনির হোসেন জানান, প্রতি বছর বৃষ্টির সময় এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনের কারণে মাঝে মাঝে যান চলাচল বন্ধও রাখা হয়। সড়কটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় এই সড়ক পরিদর্শনে অনেক পর্যটক আসেন। কিন্তু সড়কের ওপর দিয়ে একটি মাইক্রোবাসও চলাচল করার মতো অবস্থা নেই। তিনি বলেন, ‘অনেক ঝুঁকি নিয়ে কোনোমতে অটোরিকশা চালাচ্ছি। ভাঙনকবলিত অংশের ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় সারাক্ষণ ভয়ের মধ্যে থাকি। যখন-তখন পুরো সড়ক ধসে ৫০০ ফুট নিচে দেবে যেতে পারে বলে সারাক্ষণ মনে ভয় ভয় লাগে।’ সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করার জন্য বিশেষ কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দুর্গেশ্বর চাকমা বলেন, এই সড়ক দিয়ে আমাদেরও প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হয়। সড়কের অনেক স্থানে ভাঙন রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় এই সড়ক সংস্কার বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টিগোচরও করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য শান্তনা চাকমা বলেন, সড়কটি সংস্কারের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের। তিনি বলেন, আপাতত বালুর বস্তা ফেলে কোনোমতে সড়কে যান চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই বালুর বাঁধ বেশি দিন টিকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সওজের স্থানীয় প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিমকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। জনস্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।