তুলসী ভেষজ উদ্ভিদ। ছোট-বড় সবারই চেনা। এর ভেষজ গুণ সম্পর্কে ধারণা রয়েছে অনেক মানুষের। তাছাড়া বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তুলসী এন্টিভাইরাস বলে প্রমাণিত। আমাদের দেশের প্রায় বাসা-বাড়িতে এ গাছের দেখা মেলে এবং দেশের প্রায় সর্বত্রই তুলসী জন্মে। তাছাড়া বসতবাড়িতে রোপণের উপযোগী আদর্শ উদ্ভিদ তুলসী। হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বাড়ির জন্যে অপরিহার্য উদ্ভিদ। কেননা তারা তাকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে জানে এবং পূজায় ব্যবহূত হয়। পরিবার Lamiaceae। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Ocimum sanctum Linn। আদি নিবাস ভারত, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ।
তুলসী সুগন্ধীযুক্ত চিরহরিত্ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। গাছের উচ্চতা গড়ে ২ থেকে ৩ ফুট। এর কাণ্ড কাষ্ঠল ও সরল। শাখা-প্রশাখা অধিক, যা বিপরীত বিন্যস্ত ও খাড়া। পাতা সুগন্ধী, সরল, কিনারা খাঁজকাটা। পাতা ও বিটপ রোয়ায় ভর্তি। ফুল আকারে ক্ষুদ্র, রং হালকা বেগুনি বা ফিকে লাল। ফুল ফোটার মৌসুম শরত্ ও হেমন্ত কাল। ফল ও বীজও আকারে ক্ষুদ্র। ফলের ভেতর থাকে বীজ। বীজের গঠন চ্যাপটা, রং ফিকে হলুদ বা হালকা লাল। আমাদের দেশে চার রকমের তুলসী চোখে পড়ে—বাবুই তুলসী, শ্বেত তুলসী, কৃষ্ণ তুলসী ও বন তুলসী। রৌদ্রোজ্জ্বল সুনিষ্কাশিত উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি ও দো-আঁশ থেকে বেলে দো-আঁশ মাটি তুলসী গাছ উত্পাদনের উপযোগী। তবে আংশিক ছায়াযুক্ত স্থানেও তুলসী গাছ জন্মে। সাধারণত বীজের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয়। চাষের জন্য পরিপক্ব ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে তা রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। জমিতে বীজ বপণের আগে পানিতে ৬ ঘণ্টা ভিজিয়ে নিয়ে ছেঁকে বাতাসে শুকিয়ে নিতে হয়। গ্রীষ্মের শুরু অর্থাত্ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস তুলসীর বীজ বপনের উত্তম সময়। তুলসীগাছে প্রয়োজনে সেচ দিতে হয় এবং পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরাসরি মাটি ও টবে রোপণ উপযোগী উদ্ভিদ তুলসী।
ভেষজগুণে ভরপুর তুলসীর পাতা, বীজ ও শেকড়। তুলসী পাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে পানি দূষণমুক্ত হয় ও পরিশুদ্ধ থাকে। জ্বর, সর্দি, কাশি ও কৃমি দূর করে। কোষ্ঠকাঠিন্য উপসম হয়। তুলসীর বীজ ভিজিয়ে রেখে সে পানি প্রতিদিন সকালে খেলে প্রস্রাবের জ্বালা কমে। হামের দাগ, বসন্তের দাগ তুলতে তুলসীর রস বেশ উপকারী। পোকামাকড়ের কামড়ে ক্ষত স্থান ও ব্যথা সারাতে উপকারী। শরীরের ওজন কমাতেও সাহায্য করে থাকে। ক্যান্সার নিরাময় হয়। কিডনির পাথর দূর করে।
ভেষজগুণে গুণান্বিত তুলসী যেনো প্রকৃতি ও মানুষের জন্য এক অনন্য উপাদান।