সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পাঁচ দফা

কয়লার ভাগাড় হচ্ছে বাংলাদেশ: সুলতানা কামাল

ইত্তেফাক রিপোর্ট

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেছেন, উন্নয়ন বা বিদ্যুতের জন্য কয়লা, এমনকি কোনো জীবাশ্ম জ্বালানিরই কোনো প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্র পরিচালকদের মন পরিষ্কার থাকলেই আমাদের অফুরন্ত পরিষ্কার বিকল্প জ্বালানি চোখে পড়বে। কম খরচে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উত্পাদন এখন আর কঠিন নয়। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কাজে না লাগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বনিন্দিত কয়লার ভাগাড় হতে চলেছে। গতকাল শনিবার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সুন্দরবনের কাছে নির্মাণাধীন রামপাল প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়ে সুলতানা কামাল বলেন, রামপাল প্রকল্পের নির্মাতা ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি তাদের নিজ দেশে সব কয়লাবিদ্যুত্ প্রকল্প স্থগিত করেছে। অথচ একই প্রতিষ্ঠান প্রবল গণআপত্তির মুখেও বাংলাদেশে কয়লাবিদ্যুত্ তৈরিতে পিছপা  হচ্ছে না। এটি নিঃসন্দেহে একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ আচরণ। বাংলাদেশ সরকার ইচ্ছা করলেই সুন্দরবন, সারাদেশের বন, নদী, উপকূল, জলাশয়, বায়— সবকিছুকে বাঁচিয়েই উন্নয়নের            পথে এগোতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পাঠকালে তিনি বলেন, সুন্দরবনকে রক্ষা না করতে পারাটা হবে আমাদের জন্য বড় ব্যর্থতা। এই বনকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক, সাংবিধানিক ও নাগরিক দায়িত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুত্ প্রকল্প বাতিল করা, সুন্দরবনের বাফার জোন, কোর জোন ও বনের নিকটবর্তী সব কল-কারখানা, এলপিজি কারখানা বন্ধ করা, ইউনেসকোর সব দিক-নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন করা, লাল ক্যাটাগরির শিল্পকে সবুজ করার কাজ বন্ধ করা ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষার কার্যসীমা নির্ধারণ করা। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স,  বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) এর যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল ও মো. আবদুল মতিন।