পদ্মায় তীব্র ঘূর্ণি স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। বড়ো ও মাঝারি আকারের ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গতকাল শনিবার দুপুরে। শুধু তিনটি ছোটো ফেরি দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো ধরনের গাড়ি পার করা হচ্ছে না। এতে উভয়ঘাটে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। তীব্র স্রোতের কারণে এর আগে শুক্রবার এ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন চলছেই। গতকালও চোখের পলকে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত অর্ধশত বসতবাড়ি। অন্যরা বসতবাড়ি দ্রুত সরিয়ে নিচ্ছেন।
সরেজমিন শনিবার দেখা যায়, দৌলতদিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাট নদী ভাঙনের কবলে পড়ে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ২ নম্বর ফেরি ঘাটও যে কোনো সময় নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া ঘাট এলাকার অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিলীন হবার পর শত শত লোক তাদের বাড়ির মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। এ সময় কথা হয় রিপন, আতিয়ার, মোবারকসহ কয়েক যুবকের সঙ্গে। তারা জানান, তারা তাদের বন্ধু রশিদের বাড়ি সরানো কাজে সহযোগিতা করতে এখানে এসেছেন। বন্ধুর এই দুঃসময় তার পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। তারা জানান, বাড়িঘর পদ্মায় চলে যাওয়ার আগে যতটুকু উদ্ধার করা যায়। মেয়ে-জামাইয়ের বাড়ি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে শুনে এসেছেন মাজেদা বেগম। তিনিও বাড়ি থেকে আসবাবপত্র এনে সড়কের ওপর রাখছেন। তিনি বলেন, আমার মেয়ের সোনার সংসার ছিল। এক মুহূর্তে ওরা নিঃস্ব হয়ে গেল। এ রকম ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের আত্মীয়-স্বজন যে যেখানে ছিল, সবাই ছুটে এসেছেন, আসবাবপত্র সরানোর কাজ করছেন।
এদিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন প?য়ে?ন্টে পদ্মা নদীর পা?নি পাঁচ সে?ন্টি?মিটার কমে বিপদসীমার পাঁচ ?সেন্টিমিটার ওপর দি?য়ে প্রবা?হিত হ?চ্ছে। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। রাজবাড়ী পা?নি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-?বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুরের দাবি, ভাঙনের কবল থে?কে দৌলত?দিয়া ঘাট রক্ষার জন্য তারা সর্বাত্মক চেষ্টা কর?ছেন।