নেটওয়ার্কের ত্রুটির কারণে বিটিসিএলের ল্যান্ড ফোন ব্যবহারে বিমুখ হচ্ছে গ্রাহক। বর্তমানে চট্টগ্রাম জোনে প্রায় ৩০ হাজার সংযোগ দীর্ঘদিন যাবত্ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব সংযোগের বিপরীতে প্রায় ১৫ কোটি টাকা গ্রাহকদের কাছে বকেয়া রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিচ্ছিন্ন সংযোগ চালু নিয়ে গ্রাহকদের তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ফলে এসব বকেয়া উদ্ধার নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নেটওয়ার্কের দুই যুগের পুরোনো ক্যাবল জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। উন্নয়ন কাজে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মাটির নিচে থাকা ক্যাবল আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিকল সংযোগ চালু নিয়ে চলছে চরম গ্রাহক হয়রানি। টাকা ছাড়া সংযোগের ত্রুটি মেরামত হয় না বলে গ্রাহকদের অভিযোগ। আর সেবা নিয়ে ভোগান্তির কারণে বিটিসিএলের ল্যান্ড ফোন নিয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে গ্রাহকরা।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও বি.বাড়িয়া এলাকা নিয়ে বিটিসিএল চট্টগ্রাম জোন গঠিত। এসব এলাকায় বিটিসিএলের যে ক্যাবল নেটওয়ার্ক রয়েছে তার মাধ্যমে ২ লাখ ৩৫ হাজার টেলিফোন সংযোগ দেয়া যায়। বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের আওতায় ৯২ হাজার সংযোগ চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মোবাইল ফোনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মাঝে টিএন্ডটি ল্যান্ড ফোনের গুরুত্ব কমে গেছে। নতুন করে সংযোগ নেওয়া যেমন কমে গেছে তেমনি অচল ও বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন সংযোগ চালু করা নিয়ে গ্রাহকদের সাড়া মিলছে না। বকেয়া পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের বারবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
নগরীতে ওয়াসা, সিটি করপোরেশনসহ নানা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন সময়ে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ হয়ে থাকে। এসময় মাটির নিচে স্থাপিত টিএন্ডটির ক্যাবল কাটা পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বারবার যোগাযোগ করার পরও তা মেরামত হয় না। এসব ভোগান্তির কারণে অনেকেই টিএন্ডটির ফোন আর ব্যবহার করছেন না। চট্টগ্রাম জোনে নেটওয়ার্ক মেরামতে বছরে ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা খরচ দেখানো হচ্ছে। কিন্তু তারপরও গ্রাহকদের সেবা নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়, টাকা ছাড়া মিলে না সেবা। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে কাটাকাটি ও মেরামতের কারণে জরাজীর্ণ ক্যাবলগুলো সামান্যতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জোড়াতালি দিয়ে ক্যাবল সচল রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
নগরীর চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী সমীর পাইক জানান, সংযোগ এক সপ্তাহ সচল থাকে না। আর টাকা ছাড়া মেরামত হয় না। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আহমেদ রশিদ জানান, ল্যান্ড ফোন চালু রাখা নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। মেরামতের জন্য তারের টাকা ও বকশিশ দিতে হয়। এখন সমস্যার কারণে সংযোগ বন্ধ রয়েছে। আর মেরামতের জন্য যোগাযোগও করছি না।
এ ব্যাপারে বিটিসিএল নন্দনকানন কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (ফোন) এনামুল হক ইত্তেফাককে বলেন, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে লাইন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খোঁড়াখুঁড়ির সময় আমাদের আগে জানানো হয় না। কাজ শেষ হলে সিটি করপোরেশন কার্পেটিং করে ফেলে। এতে লাইন মেরামতে সমস্যায় পড়তে হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলেই দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিটিসিএল সূত্র আরো জানায়, কয়েক হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও নতুন সংযোগ না থাকায় আয় কমে গেছে। এতে আয়-ব্যয়ে সমন্বয় হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম জোনের চিফ জেনারেল ম্যানেজার মনজুর মোর্শেদ সরকার ইত্তেফাককে বলেন, বিটিসিএলের সারাদেশে ক্যাবল নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। নেটওয়ার্ক অপটিক্যাল ফাইবারে যুক্ত করা হবে। কমমূল্যে নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে গ্রাহক পর্যায়ে সেবা ও আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।