স্বাধীনতা কাপ ফুটবল

মনে রাখার ম্যাচে জিতলো ব্রাদার্স

স্পোর্টস রিপোর্টার

ফুটবলে এমন উত্তেজনার খেলা খুব কমই চোখে পড়ে। দিনের পর দিন একটা ভালো ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় যারা গ্যালারিতে বসে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজেন, কাল তারা আনন্দ মনে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে আরামবাগ এবং ব্রাদার্সের লড়াইটি দুর্দান্ত সব উত্তেজনা উপহার দিয়েছে। সাডেন ডেথে ব্রাদার্স ৪-৩ গোলে আরামবাগকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। বিদায় করে দিয়েছে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আরামবাগকে।

এরকম লড়াইয়ের মধ্যেই নির্ধারিত সময়ে ৩-৩ গোলের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বাড়তি উত্তেজনা জোগায়। টাইব্রেকারও ৩-৩ গোলে অমীমাংসিত থাকে। শেষ পর্যন্ত সাডেনডেথে ব্রাদার্সকে জেতান  খান মোহাম্মদ তারা। আরামবাগের নাইজেরিয়ান চিনোডু ম্যাথিউর শট ব্রাদার্সের গোলকিপার সুজন চৌধুরী ঠেকিয়ে দেন। শেষ হয় শ্বাসরুদ্ধকর একটি ম্যাচের গল্প।

ব্রাদার্সের গোলরক্ষক সুজন ম্যাচের নায়ক। খেলাটিতে দুর্দান্ত সব গোল হয়েছে। ২৪তম মিনিটে আরামবাগের অধিনায়ক রবিউল ইসলামের গোলটি বাদ দিলে বাকিগুলো ছিল দৃষ্টিনন্দন। এমন গোল হালে দেখা যায় না। রবিউল গোল করেছেন এবং করিয়েছেন। দারুণ খেলেছেন এই ফুটবলার। অথচ আরামবাগের গোলের আগে ব্রাদার্স তিনবার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। একটা সুযোগেই আরামবাগ ব্রাদার্সকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ব্রাদার্সের ব্রাজিলীয়ান দুই ফুটবলারের সঙ্গে পানামা এবং ইরাকি ফুটবলারদের এক সুতোয় বাঁধা আক্রমণগুলো ছিল উপভোগ্য।

আরামবাগ দুইবার গোল করে এগিয়ে যায়। দুইবারই ব্রাদার্স গোল শোধ করে দেয়। ব্রাজিলীয়ান লিমা সমতা আনেন ৪৪ মিনিটে ১-১। দ্বিতীয়ার্ধে আবার আরামবাগের রবিউল হাসানের গোলে এগিয়ে যায় আরামবাগ ২-১। ব্রাদার্সের সাফির ক্রসে ভাসানো বলে দর্শনীয় গোল করেন মান্নাফ রাব্বী ২-২। গোল দেখে মুগ্ধ দর্শকরা উল্লাস করে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।

এরপর ব্রাদার্স এগিয়ে যায় পানামার ফুটবলার ড্যানিয়েল মেজা আগুলার চোখ ধাঁধানো গোলে ৩-২। ড্যানিয়েল গোল করেই জার্সি খুলে আনন্দ করতে গেলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে লালকার্ড পেয়ে মাঠছাড়া হন। ১০ জনের ব্রাদার্স গোল হজম করে খেলা শেষ হওয়ার মিনিট পাঁচ আগে। অহেতুক বল কর্নার করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন ব্রাদার্স ডিফেন্ডার।

এবারো আরামবাগের অধিনায়ক সেই রবিউল হাসান উত্স। তার কর্নারে ক্যামেরুনের ফুটবলার পলএমিলি নিখুঁত হেডে সমতা এনে হার থেকে বাঁচান আরামবাগকে ৩-৩। অতিরিক্ত সময়ের খেলা ছিল আরও উপভোগ্য। দুই দলের লড়াইয়ে ব্রাদার্সের গোলকিপার সুজন ছিলেন নায়ক। যেভাবে বল ফিষ্ট করে শূন্যে ভাসিয়ে আবার মাটি থেকে উঠে গিয়ে গ্রীপ করেছেন তা ছিল ছবির মতো।

অতিরিক্ত সময়ে আরামবাগের সারোয়ার নিপু লালকার্ডে মাঠ ছাড়েন। টাইব্রেকারে ব্রাদার্স এবং আরামবাগের প্রথম শট ব্যর্থ হয়। ব্রাদার্সের মান্নাফ রাব্বি, আশরাফুল করিম, মুইয়াদ খালিদ আল খামাসী গোল করেন। আরামবাগের রাজন মিয়া গোল করলেও রবিউলের শট ঠেকিয়ে গোলকিপার সুজন আবার জয়ের পথে তোলেন। আরামবাগের জাহিদ এবং রাজন মিয়া গোল করেন। এগিয়ে থাকা ব্রাদার্সকে বিপদে ফেলেন ব্রাজিলীয়ান এভারটন, আকাশে মেরে। আরামবাগের কিংসলে চিকোডি গোল করে বাঁচিয়ে দেন। টাইব্রেকার শেষ হয় ৩-৩ গোলে। সাডেন ডেথে ব্রাদার্সের খান মোহাম্মদ তারা গোল করেন এবং আরামবাগের নাইজেরিয়ান চিনেডু ম্যাথিউর শট থামিয়ে দেন গোলকিপার সুজন।     

আজ দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল : চট্টগ্রাম আবাহনী ও শেখ রাসেল, ৪টা ৩০।