এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুললেন একই বিভাগের এক ছাত্রী। গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক অভিযোগপত্রে ঐ ছাত্রী উল্লেখ করেন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ আমার গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ২০১৮ সালের ২ জুলাই দুপুরে আমি অধ্যাপক শাহেদুর রশিদের কক্ষে গেলে সে সময় বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক ও একজন সহকারী অধ্যাপক তার কক্ষে দেখতে পাই। তাদের উপস্থিতিতে অধ্যাপক শাহেদুর গবেষণা সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করলেও ঐ দুই শিক্ষক চলে যাওয়ার পর তিনি রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে আচমকা আমার পাশের চেয়ারে এসে আমার হাত ধরে বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন চলছে-এ ধরনের ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি আমার কাঁধের ওপর হাত রেখে ভালো ফলাফলসহ ক্যারিয়ার গড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। তার এ ধরনের অস্বাভাবিক আচরণে আমি দরজা খুলে জোরপূর্বক বের হয়ে আসি। অভিযোগপত্রে ঐ ছাত্রী আরো উল্লেখ করেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণে আমি বিচলিত হয়ে পড়ি এবং আমার বন্ধুকে বিষয়টি অবহিত করি। সে আমাকে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর পরামর্শ দেয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছিল। সেটি যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠিয়েছি। তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ বিভাগের এক শিক্ষক জানান, এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী বিভাগ পরিবর্তন করে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। বিষয়টি নিয়ে কোনো তদন্ত হয়নি। সম্প্রতি অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ উপাচার্যপন্থি শিক্ষক রাজনীতিতে যোগ দেওয়ায় বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক শাহেদুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।