পদ্মায় আকস্মিক পানি বৃদ্ধি

নবাবগঞ্জে ভাঙনের কবলে অর্ধশতাধিক পরিবারের বাড়িঘর

পাবনায় আকস্মিক বন্যায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া হঠাত্ করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে ঢাকার নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার। এ বিষয়ে প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর।

পাবনা : পাবনার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। গতকাল রবিবার সকালে পদ্মার পানি বিপত্সীমার ৫ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল, ফারাক্কার লকগেটগুলো খুলে দেওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি যোগ হওয়ায় আকস্মিকভাবে গত দুই দিন পদ্মার পানি বিপত্সীমার ৮ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বর্তমানে পানি কমে বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশা করা যায়, পরবর্তী সময়ে আরো নিচে নেমে আসবে।

এদিকে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজহার আলী বলেন, আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সদর উপজেলার হিমাইতপুর, ভাঁড়ারা, দোগাছি এবং চরতারাপুর, সুজানগর উপজেলার ভায়না, সাতবাড়িয়া, নাজিরগঞ্জ, মানিকহাট, সাগরকান্দি ও পৌরসভা এবং ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীপুর, পাকশী ও সাঁড়া ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায়। সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে ঈশ্বরদী, পাবনা সদর এবং সুজানগর উপজেলায়। এসব এলাকার পেঁয়াজ, মাষকলাই, পেঁপে, গাজর, মুলা, মরিচ, কলা ও বেগুনসহ বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত ডুবে গেছে। চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরের বিলাঞ্চলের কিছু বোনা আমন ধানও ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া ফসলে কমপক্ষে ৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে—দাবি ওই কৃষি কর্মকর্তার।

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) :হঠাত্ পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকার নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া হজরতপুর সাদাপুর ও সৈয়দপুর খালের দুই পাড় ভাঙনের কবলে পড়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, গত কয়েকে দিনে পদ্মার পানি হঠাত্ বেড়ে যাওয়ায় হজরতপুর-সৈয়দপুর এলাকার খালপাড়ে অবস্থিত বাসিন্দারা ভাঙনের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটে। তারা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু। যে কোনো সময় তাদের বসতবাড়ি খালের গর্ভে বিলীন হয়ে ঘটতে পারে প্রাণহাণির ঘটনা—এমন আশঙ্কাও করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত এলাকায় গত চার দিনে ১০টি বসতবাড়ি গাছ-পালা খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার কারণে এসব পরিবারে সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে রাতদিন অতিবাহিত করছে। এসব পরিবার এখনো কোনো সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে তারা জানায় ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মঈনদ্দিন বলেন, আমাদের দপ্তর থেকে ভাঙনকবলিত সাদাপুর খাল এলাকা সাব ডিজাইনার ও সহকারী প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং আশা করি খুব শিঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু বলেন, ‘আমি ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে খালটি পরিদর্শন করেছি। নতুন করে যাতে আর না ভাঙে এবং এ বিষয়ে যাতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় সে ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।