বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা
বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। এদিকে আসনটি পুনরুদ্ধারে চেষ্টায় রয়েছে বিএনপি।
স্বাধীনতার পর থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এ আসনে ১১ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের এমপি গোলাম সবুর টুলু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর উপ-নির্বাচনে এমপি হন আওয়ামী লীগের শওকত হাচানুর রহমান রিমন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও জয়ী হন তিনি। উপ-নির্বাচন ও দশম নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান রিমন এমপি নির্বাচিত হন এ আসন থেকে। উন্নয়নের কথা চিন্তা করে এবারের নির্বাচনেও নিজেদের বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। আর হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ১৯৭৩ সালের পর ২০০৮ সালের আগে এ আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে পারেনি। ২০০৮ সালে আসন পুনর্বিন্যাসে বরগুনা জেলায় একটি আসন কমে দুটি করা হয়। সে সময় বেতাগী উপজেলাকে কেটে বরগুনা-২ আসনের সঙ্গে যোগ করার পর ২০০৮ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম সবুর টুলু বিপুল ভোটে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে আছে।
বেতাগী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র হাদিছুর রহমান পান্না বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার নৌকার মনোনীত প্রার্থীকে বিজয় নিশ্চিত করার জন্য রিমনকে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।
রিমন বলেন, আমি ১৯৯৮ সালে ইউপি চেয়ারম্যান হয়ে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে আসছি। ইউনিয়ন পরিষদের দুইবার চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের একবার চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদ সদস্য দুইবার নির্বাচিত হয়েছি। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো, ইনশাআল্লাহ।
অন্যদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। ১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এ আসনে বিএনপি’র তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল ইসলাম মনি। এবার তিনি মনোনয়ন না পেলেও দলের স্বার্থে একসাথে কাজ করবেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। সে কারণে এ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করছেন।
বেতাগী উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মোঃ শাহীন জানান, এ আসনটি ফিরে পেতে বিএনপি’র সব নেতাকর্মীকে উজ্জীবিত করে তাদেরকে এক প্লাটফর্মে আনা হয়েছে। আসন পুনরুদ্ধারে বিএনপি’র সকল নেতাকর্মীরা একযোগে কাজ করছেন।
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বরগুনায় তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন আমার চোখে পড়ে না। মানুষ এখন এলাকার উন্নয়নের জন্য পরিবর্তন চায়। সাধারণ মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে।