যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এছাড়া তার সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে মাদক আইনে পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল ৪ টার দিকে র্যাব-১ এর উপ-সহকারী পরিচালক সুবেদার নায়েক আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় মামলা দুটি করেন।
সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে সম্রাট গ্রেপ্তারের ভয়ে কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যাওয়ার জন্য কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অবস্থান করছিলেন। এই সংবাদ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে র?্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন আহম্মদের নেতৃত্বে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে সড়ক পথে রওনা হই। ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের মনির চৌধুরীর বাড়িতে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে (৫২) আটক করতে সক্ষম হই। এসময় এনামুল হক আরমানকে মাদক সেবনরত অবস্থায় পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার কার্যালয় ভূঁইয়া ম্যানশনে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও সহযোগীরা আছে বলে জানান। তখন তাকে নিয়ে কুমিল্লা থেকে রওনা হয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনের চতুর্থ তলায় পৌঁছে যাই। তার ফ্ল্যাটের বেডরুমের বিছানার নিচ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ওই ভবনের বিভিন্ন জায়গা থেকে ২টি ইলেকট্রিক শক মেশিন, ২টি লাঠি, ১৯ বোতল বিভিন্ন ব্রান্ডের বিদেশি মদ, ১১৬০ পিস ইয়াবা, চার প্যাকেট খেলার তাস উদ্ধার করে তা মামলার জব্দ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, মামলা দুটি নথিভুক্ত হওয়ার পর আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেব। র্যাবের পক্ষ থেকে মামলার সপক্ষে আলামতও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখব এবং আদালতে পেশ করব।