রংপুরে বিজয়ের পতাকা উড়েছে গোটা শহরে

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রংপুরে বিজয়ের পতাকা উড়েছিল প্রশাসকের কার্যালয়সহ গোটা শহরে। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানিদের দখলদারিত্ব থেকে রংপুরকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে বাংলাদেশের বীর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত মিত্র বাহিনী।

রংপুরকে শত্রুমুক্ত করার পরই রংপুর সেনানিবাসে স্থাপন করা হয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৬ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের সদর দপ্তর। আর মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ১৫ ডিসেম্বর রংপুরের দমদমা ব্রিজ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনী রংপুর সেনা ক্যাম্প ঘিরে ফেললে পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে বলে জানান জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন ও রংপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সদরুল আলম (দুলু)।   রংপুর ৬ নম্বর সেক্টরের অধীনে ২ নম্বর সাব-সেক্টরের সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা সেক্টরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা

মো. আকবর হোসেন বলেন, রংপুর মুক্ত হওয়ার পর ভোর হওয়ার আগেই ৬ নম্বর সেক্টরের সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছিল রংপুর সেনানিবাসে। ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় ৬ নম্বর সেক্টর কমান্ডার একটি লম্বা বাঁশের শীর্ষে বাংলাদেশের পতাকা বেঁধে ডিসি অফিসে বিজয়ের পতাকা প্রথম উড়িয়ে দেন। সেই সঙ্গে রংপুর শহরও স্বাধীন বাংলার পতাকায় ছেয়ে যায়।  তিনি আরো বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আনুমানিক সকাল আটটার দিকে সদর দপ্তরে আসেন সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খাদেমুল বাসার ও সাব সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নওয়াজেস। তারা সেখানে এসে সদর দপ্তরে সমবেত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে সামরিক কায়দায় রংপুরের ডিসি অফিসে মুক্ত মাটিতে প্রথম উত্তোলিত জাতীয় পতাকাকে স্যালুট প্রদান করেন। 

সেকশন কমান্ডার (অপারেশন) বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিয়ার রহমান বলেন, খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেছে। এরপর থেকেই সেনানিবাসসহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আশেপাশের এলাকা রংপুরের নানান বয়সী মানুষের ভিড়ে লোকারণ্য হয়ে যায়। ভেতরে পাকিস্তানিরা বাহিনীর সদস্যরা যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।