সিলেটে সিরিজের শেষ ওয়ানডে। মনে হয়েছিল, সেই পর্যন্ত সিরিজের ফলাফল অপেক্ষা করবে না। কিন্তু সেই ধারণা বদলে দিলেন শাই হোপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ওপেনার অসামান্য এক ইনিংস খেলে কেড়ে নিলেন বাংলাদেশের জয়। গতকাল ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা।
আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে করেছিল ২৫৫ রান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
জবাব দিতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলীয় মাত্র ৫ রানে প্রথম উইকেট হারায়। কিন্তু তাদের খেলায় রাখেন শাই হোপ। তিনি ড্যারেন ব্র্যাভো ও মারলন স্যামুয়েলসের সাথে দারুণ দুটো জুটি করেন। ব্র্যাভোর সাথে ৬৫ ও স্যামুয়েলসের সাথে ৬২ রান যোগ করেন হোপ। ব্র্যাভোকে রুবেল ও স্যামুয়েলকে মুস্তাফিজ ফেরান। এরপর বিপজ্জনক হতে পারা শিমরন হেটমেয়ারকে নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে ফেরান রুবেল। পরপরই প্রতিপক্ষ অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলের উইকেট নেন মাশরাফি। ৯ রান করে ফেরেন রোস্টন চেজ। এই অবস্থায়ও হোপ ধরে রেখেছিলেন লড়াই। শেষ পর্যন্ত বোলার কেমু পলকে সঙ্গে নিয়ে হোপ জয় এনে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। শাই হোপ ১৪৪ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো ১৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বাংলাদেশ আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায়। ব্যক্তিগত ৫ ও দলীয় ১১ রানের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন দাস। পেসার ওশানে থমাসের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে গোড়ালির অরক্ষিত অংশে আঘাত পান লিটন। মাঠ থেকে তাকে পরীক্ষার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিলে ঝুঁকিমুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়। লিটন ফেরার পর স্কোর বোর্ডে ৩ রান যোগ হতেই ব্যক্তিগত শূন্য রানে ফেরেন ইমরুল কায়েস। এরপর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ১১১ রানের একটি জুটি করেন তামিম ইকবাল।
তামিম ঠিক ৫০ রান করে ফিরে আসেন। অন্য দিকে মুশফিক আউট হন ৬২ রান করে। এই দু’জনের বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান একটা ৬১ রানের জুটি করেন। রিয়াদ ৩০ রান করে ফেরেন। এরপর সাকিব লড়াই করার চেষ্টা করেন সৌম্য, মাশরাফি ও ফেরত আসা লিটনকে নিয়ে। কিন্তু সাকিব ৬৫ রানে আউট হলে লড়াইটা আবারও ধাক্কা খায়। শেষ ওভারগুলোতে বাংলাদেশ একেবারেই রান তুলতে পারেনি। শেষ ২ ওভারে মাত্র ৫ রান করতে পারেন মাশরাফি ও মিরাজ। ফলে বাংলাদেশের রানটা কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছায়নি।