প্রাণিজগতে এমন কিছু উদ্ভিদ রয়েছে যারা মাংস খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে। তবে এই ধরনের মাংসাশী উদ্ভিদরা চাইলেই প্রাণীদের মতো চলাফেরা করে শিকার করতে পারে না। শিকারকে নাগালের মধ্যে পেতে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে হয় তাদের। মূলত বিভিন্ন প্রজাতির কীটপতঙ্গকে লোভ দেখিয়ে কাছে এনে শিকার করে থাকে এরা। এখন পর্যন্ত এই ধরনের যেসব শিকারি মাংসাশী উদ্ভিদের কথা জানা গেছে তার মধ্যে অন্যতম ‘সানডিউ (Sundews, or the Drosera) বা সূর্য শিশির গাছ’ ও ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ (Venus Flytrap)| আরেকটি পোকা শিকার গাছ কলসী উদ্ভিদ (The Pitcher Plant)। তবে এবার বিজ্ঞানীরা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় অনুসন্ধান করে দেখতে পেয়েছেন, এই কলসী উদ্ভিদের সাথে শিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বিশেষ এক প্রজাতির মাকড়সার। বলা যায়, এই মাকড়সা এবং কলসী উদ্ভিদ যুগপত্ভাবে শিকার করে পতঙ্গকে।
গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক ওয়েঙ নিগাই লাম বলেন, ছোটখাটো পতঙ্গকে শিকার করতে মাংসাশী কলসী উদ্ভিদরা লোভের ফাঁদ পাতে। কলসী উদ্ভিদের কলসী উজ্জ্বল লাল রঙের মধুর মতো মিষ্টি রসে পূর্ণ থাকে। পতঙ্গরা এই মধুর লোভে কলসীর উপরে এসে বসতেই পিছলে ভেতরে পড়ে যায়। সাথে সাথে কলসীর মুখ বন্ধ করে ফেলে এরা। এরপর সেই মধুই পতঙ্গকে খাবারে পরিণত করে। কিন্তু বড় জাতের কোন পতঙ্গ হলে সেই শিকারে অংশ নেয় আট পা-ওয়ালা মাকড়সারা। বড় আকারের উড়ন্ত পতঙ্গরা অনেক সময় কলসী উদ্ভিদের আশপাশে এলেও সরাসরি ভেতরে ঢুকতে চায় না। এমন পরিস্থিতিতে আশপাশে লুকিয়ে থাকা মাকড়সারা সেই পতঙ্গকে ধাক্কা দিয়ে কলসীর মধ্যে ফেলে দেয়। কলসীর মধ্যে ফেলার পর কলসীতে থাকা বিশেষ মধুতে আটকে যায় পতঙ্গ। এরপর সেই পতঙ্গ ভোজে এক সাথে অংশ নেয় মাংসাশী কলসী উদ্ভিদ ও মাকড়সা। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, মাকড়সারা থাকলে কলসী উদ্ভিদরা তুলনামূলক বেশি সংখ্যক শিকার করতে পারে। সম্ভবত একারণেই মাংসাশী শিকারি কলসী উদ্ভিদদের সাথে মাকড়সার গড়ে উঠেছে অলিখিত এক বন্ধুত্ব!-ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক