অক্টোবরেই নারী দলের দুটি সিরিজ

সাবেক শব্দটা তার নামের পাশে যুক্ত হয়নি, কারণ এখনো ২২ গজে পদচারণা আছে সাথিরা জাকির জেসির। বাংলাদেশের এ নারী ক্রিকেটার এখন দেশে ও দেশের বাইরে ধারাভাষ্য জগতেই বেশি ব্যস্ত। ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে জেসি শেষবার খেলেছেন ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে।

গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেসি স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, প্রায় ৬ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। চলতি মাসে পাকিস্তান সফরের জন্য বাংলাদেশ নারী দলের ক্যাম্পে ডাক হয়েছে জেসিকে। শুধু জেসিই নয়, অভিজ্ঞ পেসার পান্না ঘোষকেও ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। ক্যাম্পে ডাক পাওয়া অবশ্য তাদের জন্য মূল দলে থাকার নিশ্চয়তা নয়।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩ অক্টোবর তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। পান্না-জেসিদের ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে কারণ চলতি মাসেই বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল অংশ নিবে ইমার্জিং এশিয়া কাপে। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় এ টুর্নামেন্টের জন্য ১৯ অক্টোবর দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ নারী ইমার্জিং দল।

একই সময়ে দুটি টুর্নামেন্টের জন্য দল গড়তে হচ্ছে বিসিবির উইমেন্স উইংকে। যা তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতাই বটে। দুটি আন্তর্জাতিক দল গড়ার মতো মানসম্পন্ন ক্রিকেটারের অভাব রয়েছে বাংলাদেশের। তাই অভিজ্ঞ জেসি-পান্নাদেরও স্মরণ করেছে বিসিবি।

পাকিস্তান সফরের জন্য বাংলাদেশ নারী দলের অনুশীলন চলছে কক্সবাজারে। জাতীয় দলের ভারতীয় কোচিং স্টাফরা যাবেন না পাকিস্তানে। তাই এ সফরে নারী দলের কোচের দায়িত্বে থাকবেন দীপু রায় চৌধুরী, সহকারী কোচ ইমদাদুল হক ও আনোয়ার হোসেন মনির। তাদের তত্ত্বাবধানেই শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলছে নারী দলের ক্যাম্প।

সিনিয়রদের ক্যাম্পে ডাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উইমেন্স উইংয়ের ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদ গতকাল বলেছেন, ‘একই সময়ে দুটি দল গড়তে হচ্ছে, জাতীয় দল ও ইমার্জিং দল। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে জাতীয় দল যাবে পাকিস্তান সফরে, ইমার্জিং দল শ্রীলঙ্কায় ইমার্জিং এশিয়া কাপ খেলবে। আমাদের পর্যাপ্ত খেলোয়াড় নেই। একই সময়ে দুটি দল গড়ার মতো মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আমাদের নেই। তাই প্রাথমিক দলের ক্যাম্পে আমরা কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে ডেকেছি। যাতে তারা অনুশীলনে থাকে। আমাদের দুটি দলের মাঝে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।’

কক্সবাজারে এখন ১৯ ক্রিকেটার অনুশীলন করছেন। আবার ‘এ’ দলের হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজে আছেন অনেকে। আগামী ১৪ অক্টোবর শেষ হবে ‘এ’ দলের সিরিজ। পরে কক্সবাজারে দুটি দল ভাগ করা হবে এবং সেখানে ১৬ অক্টোবর দুটি দলে ভাগ হয়ে একটি প্রস্তুতি খেলবে নারী ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের ওপেনার মুর্শিদা খাতুন হ্যাপি ও ফাহিমা খাতুন ইমার্জিং দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা যাবেন। কারণ ইমার্জিং দলে তিন জন সিনিয়র ক্রিকেটার খেলানোর সুযোগ রয়েছে।

পরে জাতীয় দল ফিরে আসবে ঢাকায়। ২১ ও ২২ অক্টোবর দুই দিন বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন করবেন সালমা-জাহানারারা। তারপর পাকিস্তানের উদ্দেশে বিমানে চড়বে নারী দল।