রায়পুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মেঘনা নদী ও ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে দিনের পর দিন বালু উত্তোলনের ফলে খালের স্রোতের পরিবর্তন হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে ঐসব এলাকায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও চরআবাবিল ইউনিয়নে খাসের হাট, চরঘাসিয়া, কাচিয়া, চর ইন্দুরিয়াতে সাবেক মেম্বার মো. আলী খাঁ দুইটি, স্থানীয় আলমগীর হোসেন দুইটি, বিল্লাল কবিরাজ দুইটি, মিজান ব্যাপারী দুইটি, আল আমিন চৌয়াল দুইটি, কাজল মিয়া একটি, মেঘনাবাজারে সোহেল আলম একটি, মিজানের দুইটি, চরকাচিয়া এলাকায় হারুন হাওলাদারের বাড়ির পাশে মফিজ সরকার তিনটি, চরকাচিয়া টুনুরচরে চারটি, ডাকাতিয়া নদীতে মো. আলমগীর দুইটি,  কালু ব্যাপারীর হাটে মাইনউদ্দিনের দুইটি, মিয়ারবাজারে তিনটিসহ অন্তত ২০টিসহ প্রায় ২০টি পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রায় এক মাস ধরে মেঘনা নদী ও ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খাল ও বিল থেকে এ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তারা প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে লাভবান হলেও এলাকার ফসলি জমি, সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। এতে নদীর তীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

চরলক্ষ্মী গ্রামের বসির হাওলাদার ও চরকাছিয়া গ্রামের ফরিদউদ্দিন মাঝিসহ ছয় থেকে আট জন বাসিন্দা বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বাধা দেওয়ার সাহস করে না। এরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এতে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় তাদের গ্রামের শত শত বিঘা আবাদি জমি নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। এভাবে দিনের পর দিন বালু উত্তোলন করা হলে ভরা বর্ষায় তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে সবাই।

চর ইন্দুরিয়ার সাবেক মেম্বার মো. আলী খাঁ ও অন্যরা বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন মহলে খরচা দিয়েই আমরা বালু তুলে বিক্রি করে থাকি।

উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন ও চরইন্দিরিয়া এলাকার ইউপি সদস্য আলতাফ মাহমুদ বলেন, নদীর সংযোগ খালসহ বিভিন্ন এলাকার আবাদি জমি ছাড়াও বেশিরভাগ জনবসতি এলাকা থেকেই অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করে আসছে প্রভাবশালীরা। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান করলেও নিয়মিত তদারকির অভাবে সিন্ডিকেটের অপতত্পরতা কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাফর মিন্টু ফরাজি ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন হাওলাদার জানান, বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি কয়েকবার উত্থাপিত করা হয়। এতে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে আবার চালু হয়।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীর চৌধুরী বলেন, ‘নদী ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয় ভূমি অফিসের তহশিলদার পাঠিয়ে উত্তোলনকারীদের ড্রেজারের পাইপ কয়েকবার ধ্বংস করা হয়েছে। কেউ আবার অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’