রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশন এলাকায় পরিদর্শনে আসার আগে স্টেশনের এক নম্বর প্লাটফরমের রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা ২৬টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া এলাকা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়; কিন্তু উচ্ছেদের ১৫ দিন যেতে না যেতেই ঐ স্থানে কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে আবারও নতুন করে দোকান নির্মাণের চেষ্টা শুরু করেছেন উচ্ছেদ হওয়া অবৈধ দোকানিরা।
স্থানীয়রা জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সান্তাহার জংশন স্টেশন পরিদর্শনে আসেন। তার পরিদর্শনের আগেই স্টেশন কর্তৃপক্ষ এক নম্বর প্লাটফরমের পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ২৬টি স্থাপনা সরিয়ে ফেলে। পরিদর্শনের সময় স্টেশন কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তাকে জানায়, ঐ স্থানে কোনো স্থাপনা ছিল না। ঐ কর্মকর্তা স্টেশনের পাশে যাতে কোনো প্রকার অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে স্টেশনমাস্টার ও রেলপুলিশকে সতর্ক করেন। তিন দিনের পরিদর্শন শেষে তিনি চলে যাওয়ার পর ঐ স্থানে পুনরায় মালামাল ফেলে দোকান তৈরির চেষ্টা শুরু হয়। এ পর্যায়ে সান্তাহার নাগরিক কমিটি ঝুঁকিপূর্ণ ঐ স্থানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে সমাবেশ করে। অবৈধ দোকান বসানো হলে ঐসব দোকানে অবস্থান নিয়ে অপরাধীরা স্টেশন এলাকায় নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে বলে তারা উল্লেখ করেন। রেল কর্তৃপক্ষ ও সান্তাহার পৌরসভা যৌথ উদ্যোগে উচ্ছেদকৃত এলাকা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেয়।
সরেজমিন স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উচ্ছেদ হওয়া দোকানিরা পুনরায় কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে রেললাইন ঘেঁষে দোকান নির্মাণের চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে ঐ সব দোকানি দোকান নির্মাণের জন্য বিভিন্ন মালামাল এনে স্টেশনের পাশে স্তূপ করে রেখেছে।
বিষয়টি নিয়ে সান্তাহার রেল স্টেশনমাস্টার রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুনরায় দোকান নির্মাণের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, এই জায়গা সংরক্ষণ করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
সান্তাহার রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ঐ স্থান কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা রয়েছে। কেউ যদি সেখানে অবৈধভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।