আড়াইহাজারে পুলিশের পোশাকে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি

উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর এলাকায় সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পুলিশের পোশাকধারী একদল ডাকাত নৈশপ্রহরীর হাত-পা বেঁধে তিনটি স্বর্ণের দোকান থেকে ৯০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৭৫ কেজি রুপা, নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া ডাকাতরা একটি মোবাইল ফোনের দোকান থেকে নিয়ে গেছে প্রায় ৫০টি মোবাইল ফোনসেট। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫০-৬০ গজ দূরে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও এত বড়ো ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ডাকাতরা নগদ টাকাসহ অন্তত ৭০  লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়ে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন।        

স্বর্ণের দোকানদার  উজ্জল জানান, প্রতিদিনের ন্যায় কাজ শেষে              রাতের বেলা দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। গভীর রাতে মার্কেটের নৈশপ্রহরী আব্দুল ও হাশেমের হাত পা বেঁধে ৩০/৩৫ জনের একদল ডাকাত মার্কেটের তিনটি স্বর্ণের দোকান ও একটি মোবাইল ফোনের দোকানের তালা ভেঙে মালামাল লুট করে। ডাকাতদল তার দোকান হতে ৭০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪০ কেজি রুপা ও নগদ ৭ লাখ টাকা লুটে নিয়ে যায়। সকালে নৈশপ্রহরীদের কাছে জানতে পারি পুলিশের পোশাক ও মুখোশ পরা ডাকাতদল স্পিডবোটে করে আসে এবং ডাকাতিশেষে আবার স্পিডবোটযোগেই চলে যায়।

উজ্জল জানান, ডাকাতরা তার পাশের মোস্তফার দোকান থেকে ১০ ভরি স্বর্ণ ও ২০ কেজি রুপা, শাহিনের দোকান থেকে ১০ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ কেজি রুপা ও মোক্তার হোসেনের মোবাইলের দোকান থেকে অন্তত ৫০টি মোবাইল ফোন সেট নিয়ে যায়।

নৈশপ্রহরী হাশেম জানান, ডাকাতরা সবাই মুখোশ পরা ছিল। কাউকে চেনা যায়নি। আড়াইহাজার কালাপাহাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আব্দুল খালেক জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, যাদের দোকানের মালামাল লুট হয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করে তাদেরকে গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডাকাতরা পুলিশের পোশাক পরে এসেছিল বলে এলাকার লোকজন আমাদের জানিয়েছেন। আমরা সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছি।