লাশগুলো আসবে কবে?

কাঁদতে কাঁদতে শুকিয়ে গেছে চোখের পানি। তবুও ছেলের লাশটি একবার দেখতে চান বৃদ্ধ পিতা। অনেক আশা নিয়ে  ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন  সৌদি আরবে। ছেলে ভালো কাজ করে টাকা পাঠাবে। সংসারের দুঃখ ঘুচবে। কিন্তু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা তছনছ করে দিয়েছে চারটি পরিবারের স্বপ্ন। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আড়াইহাজারের চার যুবকের লাশ দেড় মাসেও দেশে আসেনি। ঐ চার যুবকের স্বজনেরা অশ্রুসজল চোখে অপেক্ষা করছে—কবে প্রিয়জনদের লাশ দেশে আসবে।

জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট সৌদি আরবের মদিনা এলাকায় আল ফাহাদ কোম্পানিতে কর্মরত চার যুবক কাজে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। নিহতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের বদলপুর গ্রামের জব্বর মিয়ার ছেলে সুরুজ মিয়া, একই গ্রামের মোতালিব বেপারীর ছেলে নূরে আলম ওরফে নুরা মিয়া, খালিয়ারচর গ্রামের মোকাররমের ছেলে উজ্জল এবং খাগকান্দা ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের আক্রম আলীর ছেলে রাসেল।

নিহতদের অভিভাবকরা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছেন, লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া কত দিনে শেষ হবে তা কেবল আল্লাহই জানেন। তারা বলেন, কাঁদতে কাঁদতে এখন আর চোখে পানি আসে না। কেবল শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় আছি।

এ বিষয়ে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) আড়াইহাজারের ফিল্ড অফিসার আমিনুল হক জানান, আমরা লাশগুলো দেশে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সব সময় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা, বিমান বন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে দাফনের জন্য চেক গ্রহণ, ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ প্রাপ্তি ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে সরকারি সহযোগিতার ব্যাপারে নিহতদের পরিবারকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিভাবকদের পক্ষ থেকে লাশগুলো দেশে আনার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই লাশ চলে আসবে।