শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে উপাচার্য

‘আবরার হত্যায় জড়িতদের বহিষ্কার করা হবে’

আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে এসে তোপের মুখে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে। শিক্ষার্থীদের সবগুলোর দাবির সঙ্গে একমত হলেও সব ক্ষমতা নিজের হাতে নেই বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘আবরার হত্যায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে বহিষ্কার করা হবে। আমি শিক্ষা উপমন্ত্রীর সঙ্গে তোমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলেছি। তবে আমার হাতে সব ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা অনুযায়ী তোমাদের দাবিগুলো মেনে নেব। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর নিজ কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের এসব কথা বলেছেন তিনি।

উপাচার্য বিকাল সোয়া ৪টার পর ক্যাম্পাসে আসেন। শহিদ মিনার চত্বরে বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীরা বিকাল ৫টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে উপাচার্য কার্যালয়ের নিচে অবস্থান নেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকে ‘আমার ভাই কবরে, ভিসি কেন ভেতরে’, ‘ভিসি স্যার নীরব কেন, জবাব চাই দিতে হবে’ ‘প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই দিতে হবে’।

সাড়ে ৫টার দিকে উপাচার্য কার্যালয়ের ফটকেও তালা দেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টার পর উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল দোতলা থেকে নেমে আসেন। তখন তালা খুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপাচার্য বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি কাজ করবে, তোমরা যেভাবে চাইছ, আমরা সেভাবে বহিষ্কার করব।

উপাচার্যের অনুপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন ছিল, আবরার হত্যার ঘটনার পর কেন আপনি ক্যাম্পাসে আসেননি। এর জবাবে উপাচার্য বলেন, আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।

আবরারের জানাজায় জাননি কেন। এর জবাবে উপাচার্য বলেন, আমি সারাদিন মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, মিটিং করেছি। এগুলো না করলে দাবিগুলোর সমাধান হবে কীভাবে? এভাবে শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে থাকেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর উপাচার্য আবার ওপরে তার কার্যালয়ে চলে যান। তখন আন্দোলনকারীরা আবার ফটক তালাবদ্ধ করে দেয়। তারা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন।

বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আলোচনা করে মঙ্গলবার দিনের কর্মসূচি শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রাত ১০টার দিকে উপাচার্য কার্যালয়ের ফটক থেকে তালা খুলে দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।