সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নির্ভর করে নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির ওপর। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষে কতগুলো রুটিন কাজের বাইরে অন্যকিছু করার সুযোগ থাকে না। নির্বাচনপূর্ব সময়ে ক্ষমতাসীন সরকার বিভিন্ন উপায়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে এবারই প্রথম ক্ষমতাসীন দলের আয়োজনে বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। এ নির্বাচন সুষ্ঠু করার মূল দায়িত্ব সরকারি দলের। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিস মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘ভোটাররা কি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন?’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রায় ২৫ শতাংশ তরুণ ভোটার আছেন। তারা যেন হতাশ না হন। এই তরুণেরা হতাশ হলে বিপথে চলে যাবে।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, নির্বাচন দ্বারপ্রান্তে হলেও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুন্দর পরিবেশ এখনও সারাদেশে অনেকটাই অনুপস্থিত। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতা এ অবস্থা থেকে উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন শুধু অবাধ হলেই হবে না, স্বচ্ছও হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আস্থা নষ্ট হওয়ার মতো কিছু হয়নি। সদিচ্ছা থাকতে হবে নির্বাচন করার। জনগণ যার সঙ্গে থাকবে তারাই জিতবে।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বহাল থাকা সংসদ ও সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
সিজিএস’র নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মো. ফজলুল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, অধ্যাপক রাশেদ আলী মাহমুদ তিতুমীর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শাহাব এনাম খান।