ছাত্রলীগ নেতাদের অবাধ্য হলেই র্যাগিংয়ের নামে চলত নির্যাতন

আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করে হত্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রত্যেকটি হলের গেস্টরুমে প্রতি সপ্তাহের বুধবার শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে ইচ্ছেমতো র্যাগিং দেওয়া হয়, করা হয় নির্যাতন। তারা জানান, কাউকে বেশি মারধর করার ইচ্ছে থাকলে তাকে বিশেষ কোনো রুমে নিয়ে যাওয়া হয় অথবা হলের ছাদে বা মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশ্বদ্যািলয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের অবাধ্য হলেই আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রদের র্যাগিংয়ের নামে পিটুনি দেওয়া হয়। এমন সব ঘটনায় আহত ও রক্তাক্ত করার ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। হল রাজনীতির গ্রুপিংকে কেন্দ্র করেও প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীদের হামলা করা হয়। এসব ঘটনায় বেশি ভুক্তভোগী হয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিযোগ জানালেও অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার জামিউস সানী বলেন, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের র্যাগিং দেওয়া হয় না। র্যাগিং সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত বিষয়। এটা যে কেউ দেয়। তিনি বলেন, আমিও প্রথম বর্ষে র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছি। এজন্য ছাত্র সংগঠনকে কোনোভাবে দায়ী করা যাবে না। 

শের-ই-বাংলা হলের এক শিক্ষার্থী জানান, অন্যান্য হলের ছাদে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটলেও শের-ই-বাংলা হলের রুমে নিয়ে নির্যাতন করার ঘটনাই বেশি। অন্যান্য হলের চাইতে এই হলে নির্যাতনের মাত্রাও বেশি বলে জানান তারা। ২০০৫ থেকে ২০১২ নাম্বার, এই আটটি রুমে নির্যাতনের ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। 

তিতুমীর হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এবং হল শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা এসব র্যাগিং নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রশাসনের সমর্থনপুষ্ট হয়ে ছাত্রনেতারা এসব নির্যাতন করতেন বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অভিজিত্ করকে লম্বা চুল রাখার অপরাধে আহসানউল্লাহ হলের ছাদে ডেকে নিয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। অতিরিক্ত মারধরের ফলে হাত ভেঙে যায় অভিজিতের। এর আগে ২০১৭ সালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কাফি নামে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাস ছাড়া করা হয়। এমনকি ওই শিক্ষার্থীকে গুরুতর আহতাবস্থায়ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি বুয়েট ছেড়ে বরিশালের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। একইভাবে গত বছর রায়হান নাফিস নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়।

২২ মে রশীদ হলে সুমন খান নামের এক ছাত্রের কাছে টাকা ধার চেয়ে না পেয়ে তাকে উল্টো ঝুলিয়ে নাকে গরম পানি ঢালা হয়। এতে সুমনের নাসিকা, স্নায়ুতন্ত্র ও চোখের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আমার নিয়োগ হয়েছে মাত্র তিন মাস। আমার সময়ে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।