কারখানা সংস্কারে ৩২৩ গার্মেন্টসকে সময় বেঁধে দিল সরকার

বেশ কয়েকবার সময় বেঁধে দেওয়ার পরও সরকারের তদারকির অধীনে থাকা ৩২৩টি গার্মেন্টস কারখানা সংস্কারে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোকে ডেকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কারখানাগুলোর সংস্কারের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েক সপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আলোচ্য সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ  নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে সরকারি তরফে লাইনেন্স নবায়ন বন্ধ করা এবং পোশাক শিল্পমালিকদের পক্ষ থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতার সেবা (ইউটিলিটি ডিক্লারেশন বা ইউডি) বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার দুই দফায় ৩২৩টি কারখনার প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। প্রথম দিনের সভায় বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক উপস্থিত ছিলেন। তিনিও কারখানাগুলোর সংস্কারের বিষয়ে নিজেদের অনমনীয় মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। এছাড়া বিজিএমইএ আগামীকাল থেকে তিন দফায় তাদের সদস্যভুক্ত কারখানাগুলো নিয়ে শুনানি করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলেও জনিয়েছেন। তবে কারখানার প্রতিনিধিরা সংস্কারে কিছু সমস্যার কথা জানালেও তা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগের বিষয়টি আলোচনায় আসেনি।

শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর বিজয়নগরের নতুন শ্রম ভবনে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত পোশাক কারখানার মালিকপক ও তাদের  প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে কারখানাগুলোকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।

সভায় শ্রম সচিব কে এম আলী আজম বলেন, সরকার কখনোই কোনো কারখানা বন্ধ করতে চায়না। কিন্তু কারখানাগুলো অবশ্যই পরিবেশবান্ধব হতে হবে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে আমরা প্রস্তুত। তবে কারখানার নিরাপত্তার বিষয়ে কোন ধরনের বিচ্যুতি সহ্য করব না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারখানার ত্রুটি সংস্কার না করলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে কঠোর হওয়া ছাড়া আমাদের উপায় থাকবে না।

ডিআইএফই’র মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার জন্য ত্রুটিপূর্ণ কারখানার মালিকপক্ষকে বারবার চিঠি প্রদান করা সত্ত্বেও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করছেন না। এখন কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আগে আমরা মনে করেছি আপনাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা দরকার। জানা দরকার আমাদের পক্ষ থেকে কোনো দুর্বলতা আছে কি না, অথবা আপনারা কোন সমস্যায় আছেন কি না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত না হলে কারখানাকে লাইসেন্স প্রদান করা সম্ভব হবে না।

সভা শেষে ডিআইএফই ও বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারখানার রপ্তানি ও ইউডি সংখ্যা বিবেচনায় দুই থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। আর কিছু কারখানার বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ইউডি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সভায় মন্ত্রণালয় ও কারখানা মালিকদের প্রতিনিধি ছাড়াও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় পর ওই বছরই ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের সমন্বয়ে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে আলাদা দুটি জোট গঠিত হয়। এসব বায়ারের কাছে রপ্তানিকারক প্রায় দুই হাজার গার্মেন্টস কারখানা ভবনের কাঠামো, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে ত্রুটি সংস্কার তদারকির দায়িত্ব নেয়।

ওই জোটভুক্ত কারখানাগুলোর সংস্কারে অগ্রগতি গড়ে ৯০ শতাংশের ওপরে। তবে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের তদারকির বাইরে থাকা দেড় হাজার কারখানা সংস্কারের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের শুরুতে উদ্যোগ নেয় সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়। চার বছর সময় পেরিয়ে গেলেও এ কারখানাগুলো ভবনের কাঠামো, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক ত্রুটির সংস্কার  হয়েছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এই সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া, স্থানান্তর কিংবা অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সে যুক্ত হওয়া কারখানা বাদ দিয়ে এখন ৬৯৭টি কারখানার সংস্কার দেখভাল করছে ডিআইএফই।