বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে অস্থিরতা চলছে। এ অস্থিরতা দূর করতে আপনার পরামর্শ কী? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ইমেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্র সংসদ নেই, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করা ও ছাত্রদের দাবি-দাওয়া উত্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রশাসনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও বিভিন্ন ধরনের ফি হঠাত্ করে অকারণে বৃদ্ধি ছাত্রদের ক্ষেপিয়ে তুলছে। তাই তারা আন্দোলনের পথে হাঁটছে। এ অবস্থায় ইউজিসির সঠিক পদক্ষেপ পারে এ সমস্যা দূর করতে। অন্যদিকে দলভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির কারণে প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অশান্ত হয়। হল দখল, টর্চার সেল , টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির খবর প্রায়ই পত্রিকায় দেখা যায়। তাই ছাত্র সংসদ ছাড়া দলভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের অন্যায় ও সন্ত্রাসের বিচার করতে হবে।
মুহাম্মদ আবু তালহা
লোক প্রশাসন বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে অস্থিরতা হতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আদালত বসিয়ে আরেক ছাত্রকে বিনা বিচারে খুন করে লাশ ফেলে দেয়! এটাকে অস্থিরতা বলা যাবে না। বরং খুন, হত্যা, সন্ত্রাসী, নাশকতা কর্মকাণ্ড বললেও কম বলা হবে। এটা জাতি মেনে নিতে পারে না। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সব দেশেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই যদি ছাত্রদের খুন করে তাহলে দেশের পরিণতি কত ভয়ংকর। অন্যায়ের প্রতিবাদ, বিক্ষোভে সারাদেশ এটাই প্রমাণ করে।
শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা চলছে। এ অস্থিরতা দূর করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ছাত্র-শিক্ষক প্রত্যেককেই যার যার অবস্থান থেকে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ আনয়ন করতে হবে।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা।
অনেক বছর পর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা দিয়েছে নানা সংকট ও অসন্তোষ পরিবেশ। এ অস্থিরতা দূর করতে প্রথমে যা প্রয়োজন তা হচ্ছে ক্যাম্পাসে রাজনীতিসহ সব সংগঠনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা । এই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে না পারলে নানা রকম সহিংস ঘটনা দিনে দিনে বেড়েই চলবে।
করিম, রিক
ধানমন্ডি, ঢাকা।
বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে অস্থিরতা থামতে না থামতেই শুরু হয়েছে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর অস্থিরতা । বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সারাদেশ। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র/শিক্ষক উভয়ের মধ্যে গবেষণার বিষয়গুলোকে আরো আগ্রহী করে তুলতে হবে। ভালো ভালো বিষয়গুলো সামনে আনতে হবে। অন্যদিকে রাজনীতি বিষয়টি একবারেই বন্ধ করা উচিত।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ।
অনেক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা নেমে আসত রাজনীতির কারণে। আমাদের মনে আছে—৯০-এর গণ আন্দোলনের কথা স্বৈরাচার পতনের বিষয়টি নিয়ে; কিন্তু এখন তো সেরকম কিছু নেই; কিন্তু তবে কেন এই অস্থিরতা নেমে এলো? এটা এখন প্রশ্ন। এর জন্য প্রয়োজন যারা অনৈতিক কাজকর্ম ও সহিংসতাপূর্ণ রাজনীতি করবে তাদের আজীবন বহিষ্কার করা, আবাসিক হলগুলোতে র্যাগিংয়ের নামে এবং ভিন্নমতের কারণে নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল প্রশাসনকে দায়িত্বশীল হতে হবে। হলের অস্থিরতায় প্রভোস্ট ও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
শাহরিয়ার জামিল
ফজলুল হক হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে এটা আমরা সবাই কমবেশি জানি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে শিক্ষা সেক্টরে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতার পেছনে অন্যতম কারণ হলো—কর্তৃত্ব বলে কোনো ব্যক্তির একক চিন্তা-চেতনাকে গোটা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। নতুন কোনো কিছু জাতির ঘাড়ে চাপাতে হলে সমাজের অংশীদার জ্ঞানী-গুণীজনদের সঙ্গেও পরামর্শের দরকার রয়েছে সেটা হয়তো আমাদের বিজ্ঞ ভিসি মহোদয়গণ প্রয়োজনবোধ করেন না। আর সেই কারণেই তিনি যখন যা মনে করেন, সে আলোকেই সকাল-বিকাল সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের শিক্ষা সেক্টরকে অস্থির করে তুলেছেন। বিজ্ঞ ভিসিদের নতুন নতুন সিদ্ধান্তে শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিজেরাও বুঝতে পারছেন না—তারা কী শেখাচ্ছেন, আর কী শিখছেন। ফলে আজ গোটা শিক্ষাব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
অমিত বণিক
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক, উত্তরা, ঢাকা।
সম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলছে নানা ইস্যুতে অস্থিরতা। এ অস্থিরতা দূর করতে আমার পরামর্শ হলো : সবার প্রথমেই বলতে হয় সুশাসন নিশ্চিত করার দিকটি। এরপর দুর্নীতি দমন করা। ছাত্র রাজনীতি সুন্দর ও সুস্থ পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। সকালের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া ও এর সঠিক দিক বাস্তবায়ন করা। শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে যেন সুসম্পর্ক বজায় থাকে। দিন শেষে সবাইকে দেশের কল্যাণের কথা ভাবা উচিত।
রাহাত, চট্টগ্রাম
দেশের যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা চলছে আমি মনে করি, এর অন্যতম কারণ হলো প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও বিচারহীনতা। যদি সংশ্লিষ্ট ইস্যুর সঠিক তদন্ত করে আইনি প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু বিচার করা হয়। তাহলে আশা করা যায় এ অস্থিরতা দূর হবে।
উবাইদু্ল্লাহ
তারানগরী, দুধনই, ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ।
আমার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হল থেকে ছাত্র রাজনীতিসহ র্যাগিং এবং বড়ো ভাই/বোন নামক সংক্রামক ব্যাধি চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক; আর একটি কথা বলতে চাই, যখনই কোথাও কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে তখনই এরা দায় এড়ানোর জন্য তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করে শুধু জনগণকে বোকা বানায়। কিন্তু কী করে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নির্মূল করা যায় তা নিয়ে কখনো তারা কথা বলে না! অতি সম্প্রতি “আবরার” হত্যাকাণ্ডের অবিলম্বে বিচার প্রত্যাশা করছি।
মোছা. বিলকিছ আক্তার
সরকারি ম্যাটস ও ছাত্রীনিবাস,
টাঙ্গাইল-১৯০০।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে কিছু বিতর্কিত চুক্তি নিয়ে যুক্তি দেখানোর অভিযোগে পৈশাচিক নির্যাতনে হত্যা করা হয় বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা জুড়ে থাকে খুন-গুম-ধর্ষণের বিশাল সমাহার। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, যেখানে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ার সুযোগ পান, সেই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষার্থীকে যখন নৃশংসভাবে হত্যা করে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তখন বুঝে নিতে হবে সামাজিকভাবে আমরা কতটা পিছিয়ে রয়েছি। আমি মনে করি, রাজনীতি করতে হলে একটি গুণ অবশ্যই দরকার। তা হলো ‘ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া’। এই গুণ ছাড়া কেউ যদি রাজনীতি করতে আসে, তাহলে বুঝতে হবে দেশ ভয়ংকর খুনির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ফাতিন ইসরাক (আবির)
দ্বাদশ শ্রেণি, রংপুর।
হালে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে অস্থিরতা চলছে। সর্বশেষ অজ্ঞতা ও অস্থিরতার বলি আবরার। এই অস্থিরতার পেছনে নাটেরগুরুর ভূমিকায় রয়েছে ছাত্রলীগ। আর ছাত্রলীগের ছেলেপুলেরা কোনো কিছু মানতে নারাজ। এই নারাজ ভূমিকার পেছনের কারণই হলো অজ্ঞতা।
বর্তমানে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত বাণিজ্যিকধারার ও অথর্ব তৈরির প্রক্রিয়া। শিক্ষার মূলকথাই হলো পরিবর্তন কিন্তু কোনো পরিবর্তন আকাঙ্ক্ষা না ধারণ করেই নির্দিষ্ট সিলেবাস পড়ে যেনতেনভাবে সার্টিফিকেট অর্জন এবং দলবাজির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞানচর্চার পরিবর্তে তোষামোদি প্রাইজ পোস্ট অর্জন বা পোস্টিং নিয়ে ব্যস্ততার জন্য এই অস্থিরতা। আর যারা অস্থিরতার কথা বলেন তাদের একটি বড়ো অংশ মাঠ পর্যায়ের কোনো কাজ করেন না বা করতে পারেন না।
দুলাল চন্দ্র মজুমদার
সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, বরিশাল।
ছাত্র যদি ছাত্র পিটায়, তাহলে, স্কুলকলেজ, ভার্সিটি কি শেখায়? ভার্সিটিগুলোতে সাদা, নীল, হলুদ, কালো, সবুজ দল নিষিদ্ধ করতে হবে, ভার্সিটি ছাত্রদের যারা দল করে তাদের পলিটিক্যাল পাওয়ার বন্ধ করতে হবে। দলকরা ছাত্রদের অবৈধ টাকার উত্স খুঁজে বের করে, তা বন্ধ করতে হবে।
মো. ফিরোজ আহম্মেদ
মিরপুর-৬, ঢাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতার মূলে রাজনীতি। তাই ছাত্র রাজনীতি আমি চাই না। হল প্রশাসন বলে কোনো জিনিস নেই। ফলে নেতারাই হলের সিট বণ্টন করে বিধায় তারা টাকার বিনিময়ে হলে ছাত্র ওঠায়। এমনকি পিয়ন বা অন্য বিভাগে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেয়। অথচ এগুলো প্রশাসনের দেখা দরকার। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ হতে হবে।
প্রফেসর আবদুল মতিন
প্রাক্তন অধ্যাপক, গণিত বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা শুধু ছাত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষকদের নিয়েও নানা ধরনের দুর্নীতি এবং অনিয়মের কথা-বার্তা শোনা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অস্থিরতা ও অরাজকতা এর আগেও ছিল। কিন্তু বর্তমানের মতো এই ধরনের নৃশংসতা এবং দুর্নীতির কথা শোনা যায়নি। ছাত্ররা তাদের নিজেদের দাবি-দাওয়া বা জাতীয় পর্যায়ে কোনো ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে শরিক হয়েছে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে কখনো মারামারি বা ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রাণনাশে তত্পর হয়নি। বর্তমানে এই নৃশংসতা এবং প্রাণহানির ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় নিয়ে দাঁড় করায় এবং পরিস্থিতি কী হয় ভেবে দেখা দরকার।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।
রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। এটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নয়, সেজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য নিয়োগের ব্যাপারে রাজনৈতিক বিবেচনা বন্ধ করতে হবে। শিক্ষকদের কাজ হবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করা এবং মানব কল্যাণমূলক বিজ্ঞানভিত্তিক মুুক্তচিন্তা ও গবেষণার সৃষ্টি করা। শিক্ষকরা হবে শিক্ষার্থীদের জন্য আলোকবর্তিকা। দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সদা অনিয়ম দূর করতে শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার অধিকার রাখে।
মো. আবুল কালাম আজাদ
সরদার পাড়া, মুন্সিগঞ্জ।